advertisement
আপনি দেখছেন

বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়নি, বরং তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আত্মহত্যার পেছনে দাম্পত্য কলহ  ও চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে অন্তরঙ্গতাসহ পাঁচটি কারণের কথা জানিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাটি।

salman shah pic

আজ সোমবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে পিবিআই সদরদপ্তরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার।

প্রায় ৬০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ তদন্তের পর এটাই প্রমাণ হয়েছে যে, পারিবারিক কলহসহ অন্তত পাঁচটি কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আত্মহত্যার যে পাঁচটি কারণ বলা হয়েছে তা হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা এক সময় জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে কলহ।

ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন পিবিআই কর্মকর্তারা। এছাড়া ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও ভক্ত ও পরিবারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েক দফায় সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্ত করা হয়। প্রতিবারই তার মৃত্যু আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হলেও তা অদ্যাবধি মেনে নিতে পারেনি কেউ।

পরিবারের দাবির প্রেক্ষিতে সর্বশেষ ২০১৬ সালের শেষ দিকে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নতুন করে সালমান শাহর মৃত্যুর তদন্তভার দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।

পরবর্তীতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশনা অনুসারে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ফের রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এরপর বেশ কয়েক দফায় একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও সালমানের পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি। সর্বশেষ পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও আত্মহত্যার কথা বলা হলো।

sheikh mujib 2020