advertisement
আপনি দেখছেন

জাল টাকা সরবরাহ, মাদক ব্যবসা, অনৈতিক কাজ, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক রাখার অভিযোগে গ্রেফতার যুবলীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমনকে তিন মামলায় মোট ১৫ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

papia jobo

এ ছাড়া মামলার অপর দুই আসামি সাব্বির খন্দকার ও শেখ তায়্যিবাকে বিমানবন্দর থানার মামলায় পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 

আজ সোমবার দুপুরে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. কায়কোবাদ কাজী আসামিদের আদালতে হাজির করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ উর রহমান শুনানি শেষে আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ইলতুৎমিস সওদাগর অ্যানী, মশিউর রহমান চৌধুরী মানিকসহ অনেকে রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ডে দাবি করেন।

অন্যদিকে, শেরেবাংলা নগর থানার পৃথক দুই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাপিয়া ও তার স্বামীকে দুই মামলায় প্রত্যেককে ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘পাপিয়াসহ চার আসামি সংঘবদ্ধভাবে অবৈধ অস্ত্র-মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, জাল নোটের ব্যবসা, চাঁদাবাজি, তদবির বাণিজ্য, জমি দখল, অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে তারা স্বীকার করেছে। মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এবং আসামিদের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত বৈদেশিক মুদ্রার উৎস ও জাল টাকা তৈরি চক্রের সক্রিয় সদস্যদের গ্রেপ্তার, আসামিদের নিয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা ও ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন।’

এর আগে গত শনিবার অবৈধ অর্থপাচার, জাল টাকার কারবার, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে শামিমা নুর পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা। বাকি তিন জন হলেন- তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের পিএস সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবা (২২)।

জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অপকর্মের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। গত তিন মাসে তিনি হোটেল বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন বারের বিল দিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অথচ তার আয়কর ফাইলে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা।