advertisement
আপনি দেখছেন

চিত্রনায়িকা শাবনূর বলেছেন, প্রয়াত সালমান শাহ ছিলেন শুধুই আমার নায়ক, সহশিল্পী এবং বন্ধু। এর বাইরে কোনো সম্পর্ক ছিল না। তার পরও যদি কেউ এ সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলে, সেটা শুনতে বিশ্রি লাগে।

shabnur salman report

আজ সোমবার চিত্রনায়ক সালমান শাহ মৃত্যু নিয়ে করা মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পিবিআই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হত্যা নয়, আত্মহত্যা করেছেন সালমান। তবে তার আত্মহত্যার পেছনে পাঁচটি কারণ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর একটি হলো- শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা ছিল।

ওই প্রতিবেদন প্রকাশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে বাংলাদেশি গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন শাবনূর।

তিনি বলেন, ‘আমাকে জড়িয়ে এমন কথা কেন বলা হচ্ছে, তা আমি জানি না। সালমান ও আমাকে জড়িয়ে এই ধরনের কথা কেউ যদিও বলে থাকে, সেটার আমি ঘোর বিরোধিতা করছি। সালমান শুধুই আমার নায়ক ছিল, সহশিল্পী ছিল, বন্ধু ছিল, এর বাইরে আর কোনো সম্পর্ক ছিল না।’

বাংলা চলচ্চিত্রের এক সময়ের সাড়া জাগানো এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, তাকে আমি ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতাম। তার সঙ্গে আমার ভাইবোনের সম্পর্ক ছিল। তার বাবা-মা আমাকে সন্তানের মতো আদর করতেন। তার সঙ্গে আমার অন্য রকম পরিচ্ছন্ন সম্পর্ক ছিল। এটা নিয়ে এখন কেউ কিছু বললে তা তো আমি মানবই না। একজন মরা মানুষকে নিয়ে এত বছর পর এত বিশ্রী কথা বলার মনমানসিকতা কীভাবে সবার হয়, সেটাও আমি বুঝি না।’

শাবনূর বলেন, ‘আমি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কিসের জন্য আমার নাম জড়ানো হচ্ছে! সালমান যদি আত্মহত্যাও করে, তাহলে আমার কারণে কেন করবে! আমার নামটা জড়ানোর আগে সবারই একবার ভাবা উচিত।’

একজন মৃত মানুষের সঙ্গে তাকে জড়িয়ে কথা বলাটা খুব বিশ্রী মনে হয়েছে জানিয়ে ঢালিউডের এই জনপ্রিয় নায়িকা বলেন, ‘আমি তখন অবিবাহিত একটা মেয়ে। সালমান তো বিবাহিত। ওর স্ত্রীর সঙ্গেও আমার একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। সালমানের স্ত্রী সব সময় আমাদের সঙ্গেই থাকতো। প্রেমের সম্পর্কের কিছু একটা যদি হতো, এটা তখন সবাই বুঝতে পারতো। এত বছর পর এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে নোংরা উক্তি করার ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগছে না। কিছু মানুষ আমাকে জড়িয়ে গুজব ছড়িয়েছে। এখনো ছড়াচ্ছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটন রোডে নিজ বাসা থেকে চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে এটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানান তিনি।

পরবর্তীতে অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশনা অনুসারে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়।

সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী ফের রিভিশন মামলা দায়ের করেন। এরপর বেশ কয়েক দফায় একে আত্মহত্যা বলে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও সালমানের পরিবার তা মানতে রাজি হয়নি। সর্বশেষ পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনেও আত্মহত্যার কথা বলা হলো।