advertisement
আপনি দেখছেন

কড়াকড়ি আরোপ করায় এবং মুনাফার ওপর উৎসে করের হার বাড়ায় অনেকেই সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তবে আবার মানুষ সঞ্চয়পত্রমুখী হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পুঁজিবাজারে দৈন্যদশা, ব্যাংক খাতে দুরবস্থার কারণেই মানুষ আবার সঞ্চয়পত্রের দিকে ঝুঁকছে।

stockpile sell increased

জানা গেছে, চলতি বছরের প্রথম মাসে (জানুয়ারি) সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। যা গত সাত মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত বছরের জুলাই মাসে ২ হাজার ২১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বিক্রির চাপ কমাতে গত বছরের ১ জুলাই থেকে সঞ্চয়পত্রে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে কমতে শুরু করে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি।

ফলে চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে যেখানে বিক্রি হয় ২ হাজার ২১২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র। সেখানে নভেম্বরে নিট বিক্রি নেমে আসে ৩২০ কোটি ৬২ লাখ টাকায়।

তবে ২০২০ সালের প্রথম মাসে এসে আবার উল্টে গেছে হিসাব-নিকাশ। অর্থাৎ এ মাসে নিট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা।

কেন আবার বাড়ছে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি- এ প্রশ্নের উত্তরে ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘খুবই স্বাভাবিক। এপ্রিল থেকে ব্যাংকের যেকোনো স্কিমের আমানতের সুদ হার হবে ৬ শতাংশ। বেশ কিছদিন ধরেই এই ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। শেয়ার বাজারের মন্দা তো লেগেই আছে। নানা খবরে ব্যাংকের প্রতিও আস্থা রাখতে পারছে না মানুষ।

কড়াকড়ি আরোপ করায় এবং মুনাফার ওপর করের হার বাড়ায় অনেকেই সঞ্চয়পত্র থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এখন মানুষ যখন দেখছে, অন্য যেকোনো বিনিয়োগের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফা বেশি, ঝুঁকি নেই। সে কারণেই আবার সবাই সঞ্চয়পত্রই কিনছে।’

সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাড়লে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ কমবে বলেও জানান আহসান মনসুর।

এদিকে, গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সঞ্চয় অধিদপ্তর বলেছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে মুনাফার হার কমানোর বিষয়ে যে খবর প্রকাশ হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর ও অসঙ্গতিপূর্ণ তথ্য সম্বলিত।

অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত বিদ্যমান সঞ্চয় স্কিমসমূহের মুনাফার হার কমানো হয়নি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

sheikh mujib 2020