advertisement
আপনি দেখছেন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১০ কোটি টাকা খরচ করেছেন নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউ। আর যব মহিলা লীগের পদ পেতে খরচ করেছেন তিন কোটি টাকা।

shamima noor papia

র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে থাকা পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তাদের বরাত দিয়ে শনিবার এসব তথ্য জানিয়ে তদন্তকারী ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একটি সূত্র।

জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানান, নরসিংদী থেকে এমপি হতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে ১০ কোটি টাকা খরচ করেন। এত টাকা ছড়িয়েও তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হয়েছেন। যাদের টাকা দিয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন- ঢাকা মহানগর যুব মহিলা লীগের ৩ নেত্রী, কয়েক সাবেক মন্ত্রী ও এমপি এবং দলের কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। মনোনয়ন না পাওয়ার পর সেই ১০ কোটি টাকাও তুলতে পারেননি পাপিয়া।

বিপুল টাকা খরচ করে তা তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড আরো বাড়ান পাপিয়ারা। গ্রেপ্তার চার জনের মধ্যে পাপিয়া ও সুমনকে কখনো আলাদাভাবে, কখনো মুখোমুখি আবার কখনো অন্য দুই সহযোগীর মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ডিবি। এতে তারা বিভিন্ন ধরনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে সূত্র।

এখন পর্যন্ত যেসব তথ্য পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে- চাহিদামতো থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ভুটান ও রাশিয়া থেকে আকর্ষণীয় মেয়েদের এনে সার্ভিস দিতো পাপিয়ারা। চট্টগ্রামের পার্বত্যাঞ্চল থেকেও মেয়েদের আনা হতো।

২০১৫ সালে জেলা যুব মহিলা লীগের পদ পেতে তিন কোটি টাকা খরচ করেন পাপিয়া। আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাকে ‘বিশেষ উপহার’ দেয়ার বিনিময়ে বাড়িয়ে তোলেন নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি। ওই নেতাদের তদবিরেই জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন পাপিয়া। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

সম্প্রতি বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ও ডলারসহ শামীমা নুর পাপিয়া (২৮), তার স্বামী মফিজুর রহমান (৩৮), মফিজুরের পিএস সাব্বির খন্দকার (২৯) ও পাপিয়ার পিএস শেখ তায়্যিবাকে (২২) রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অবৈধ অর্থপাচার, জাল টাকার কারবার, মাদক ব্যবসা ও অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তারা।

পরে সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব জানায়, পাপিয়া গত তিন মাসে তিনি হোটেল বিল পরিশোধ করেছেন প্রায় ৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন বারের বিল দিয়েছেন প্রায় আড়াই লাখ টাকা। অথচ তার আয়কর ফাইলে বছরে আয় দেখানো হয়েছে ২২ লাখ টাকা।

পাপিয়া দম্পতি নানা অপকর্মের মাধ্যমে ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীতে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। তাদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, গাড়ি, বাড়ি, প্লট এবং ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। পাপিয়া রাজনৈতিক তদবিরের কথা স্বীকার করলেও সেই নেতাদের নাম জানাতে রাজি হননি।

sheikh mujib 2020