advertisement
আপনি দেখছেন

কত নেতিবাচক কথাই না বলা হয়েছে পদ্মা সেতু নিয়ে! কিন্তু সেসবকে পায়ে দলে ফুটে উঠছে দ্বিতল সেতুর পূর্ণাঙ্গ অবয়ব। সেতুর ওপরের অংশ এবং নিচে রেল সেতুর কাজও প্রায় শেষের দিকে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী বছরের মাঝামাঝিতে পাখা মেলবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনীতিতেও বিরাট ধনাত্মক প্রভাব ফেলবে পদ্মার দু’পাড়ের এই সংযোগ।

padma setu

এই আনন্দের খবরের সঙ্গে কিছুটা আশঙ্কাও যোগ হয়েছে বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে। যেসব চীনা প্রকৌশলী কাজ করছেন তারা কেউ কেউ ছুটিতে আছেন। তবে এর প্রভাব পড়েনি। আগের প্রস্তুতি নিয়েই কাজ চলছে। এভাবে আগামী দুই মাস চলতে পারবে। এরপরও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সমস্যা হতে পারে। পিছিয়ে যেতে পারে সেতুর নির্মাণকাজ।

সেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৩৯টির কাজ শেষ। বাকি আছে ১০, ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলার। ইতোমধ্যে মূল সেতুর ৩৬০০ মিটার স্প্যান দৃশ্যমান হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে সব পিলার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হবে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে পুরোপুরি কাজ শেষ না হলেও ২০২২ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে, তা নিশ্চিত করেই বলছেন প্রকল্প কর্তারা।

পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৮৭.৫ ভাগ। করোনাভাইরাসের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই। তবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৮ সালের নভেম্বরে। পরে দুই দফা মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। তবে নকশা জটিলতায় সে মেয়াদ আরও দেড় বছর বাড়ানো হয়েছে। এ হিসাবে ২০২১ সালের জুনে উদ্বোধনের কথা বলা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, সেতুর মূল অবকাঠামোর নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় ২০১৪ সালের নভেম্বরে। চার বছরের মধ্যে তা শেষ করার কথা ছিল। সর্বশেষ হিসাবে ২০২১ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যদিও বাস্তবে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাজেট প্রাক্কলন করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত পদ্মা সেতু প্রকল্পের ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের বাকি অর্থ তিন বছরে (২০১৯-২০ থেকে ২০২১-২২ পর্যন্ত) ব্যয় হবে। এ ক্ষেত্রে চলতি (২০১৯-২০) অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতুর জন্য বরাদ্দকৃত পুরো অর্থ ব্যয় হচ্ছে না। আর বাকি অর্থ ২০২০-২১ ও ২০২১-২২ অর্থবছরে ব্যয় করা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য প্রাক্কলনও চূড়ান্ত করা হয়েছে।