advertisement
আপনি দেখছেন

রঙ ফর্সা করে দাবি করা এমন আটটি ক্রিমে নির্ধারিত মান থেকেও মাত্রাতিরিক্ত পারদ ও হাইড্রোকুইনোনের উপস্থিতি মিলেছে। মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ক্রিমগুলো পরীক্ষা করে এসব ক্ষতিকর উপাদান পেয়েছে। আজ সোমবার এক বিজ্ঞপতিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই।

dangerous levels of mercury in cream

জানা যায়, বিএসটিআই তাদের ল্যাবে ১৩টি রঙ ফর্সাকারী ক্রিমের পরীক্ষা করেছে। এতে ৬টি ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত ক্ষতিকর পারদ পাওয়া গেছে। দুটিতে পারদ ও হাইড্রোকুইনোন উভয়ের উপস্থিতি পেয়েছে তারা। বাকি পাঁচটিতে ক্ষতিকর পদার্থের উপস্থিতি কম ছিল। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ওই আটটি ক্রিম বিক্রি-বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বিএসটিআই।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যে আটটি ক্রিমে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে সবগুলো পাকিস্তানভিত্তিক কোম্পানির ক্রিম। ক্রিমগুলোতে নির্দিষ্ট মাত্রার কয়েক শ গুণ বেশি ক্ষতিকর পদার্থ ছিল। নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী রঙ ফর্সাকারী ক্রিমে পারদের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা ১ পিপিএম এবং হাইড্রোকুইনোনের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা ৫ পিপিএম।

যেসব ক্রিমের নাম নিষিদ্ধ হয়েছে তাদের নাম ও বিএসটিআই'র ল্যাবে প্রাপ্ত ক্ষতিকর পদার্থের মাত্রা:

  • গৌরী কসমেটিকস (প্রা.) লিমিটেডের তৈরি গৌরী ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে পারদের মাত্রা পাওয়া গেছে ৭৫৫ দশমিক ৮৫ পিপিএম।
  • কিউসি ইন্টারন্যাশনালের নিউ ফেস ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে এ মাত্রা ৫৯০ দশমিক ৩৮ পিপিএম।
  • গোল্ডেন পার্ল কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গোল্ডেন পার্ল ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে পারদের মাত্রা ৬৫৪ দশমিক ১৩ পিপিএম।
  • ক্রিয়েটিভ কসমেটিকস (প্রা.) লিমিটেডের ডিউ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মাত্রা ২৮৫ দশমিক ৮৮ পিপিএম।
  • এসজে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনী ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে পারদের মাত্রা ৬২৯ দশমিক ৯৬ পিপিএম।
  • পুনিয়া ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ফাইজা ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে ৫৯০ দশমিক ৪৫ পিপিএম।
  • হোয়াইট পার্ল কসমেটিকসের হোয়াইট পার্ল প্লাস ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে পারদের মাত্রা ৯৪৮ দশমিক ৯৩ পিপিএম ও হাইড্রোকুইনোনের মাত্রা ৪৩৪ দশমিক ৭৩ পিপিএম পাওয়া গেছে।
  • নুর গোল্ড কসমেটিকসের নুর ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে পারদের মাত্রা ১৯৩ দশমিক ৬৮ পিপিএম ও হাইড্রোকুইনোনের মাত্রা ১৯৮০ দশমিক ৬৮ পিপিএম মিলেছে।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী সাজ্জাদুল বারী এ বিষয়ে বলেন, ল্যাবে সর্বোমোট ১৩টি ক্রিমের পরীক্ষা হয়েছে। যার মধ্যে বাজারে চলা অনেক নামকরা কোম্পানির ক্রিমও ছিল। তবে সেগুলোর মধ্যে একটি ক্রিমেও ক্ষতিকর পদার্থের মাত্রাতিরিক্ত উপস্থিতি ছিল না। কিন্তু পাকিস্তানি ৮টি কোম্পানির ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর পারদ ও হাইড্রোকুইনোন পাওয়া গেছে।

তিনি আরো বলেন, এসব ক্ষতিকর ক্রিম ব্যবহার করলে ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হবে। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে এসব ক্রিম বিক্রি-বিতরণ বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার পর থেকে যেসব আমদানিকারক, সরবরাহকারী, বিক্রেতা ও অনলাইন ব্যবসায়ী এসব ক্রিম বাংলাদেশের বাজারে আনবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।