advertisement
আপনি দেখছেন

জজকে বদলি করে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে জামিন দেয়ায় আইনের শাসনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। বুধবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

law minister anisul haqআইনমন্ত্রী আনিসুল হক

আইনমন্ত্রী বলেন, জেলা ও দায়রা জজ মো. আব্দুল মান্নান অত্যন্ত অশালীন ও রূঢ় ব্যবহার করায় তাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। তখন আদালতের বাইরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এ অবস্থাকে প্রশমিত করতেই কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে জামিন দেয়া হয়েছে। এতে আইনের শাসনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি।

বিচারকের অশালীন ব্যবহার করা সমীচীন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কারো জামিন দেয়া, না দেয়া সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার। কিন্তু কোনো বিচারকের ব্যবহারের কারণে যদি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয় তাহলে আইনের শাসন রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে কি না, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। তাই এমন ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

তবে পুরো ঘটনার তদন্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, যতটুকু তথ্যাদি হাতে এসেছে তাতে এটা প্রমাণ হয়েছে যে, আদালতে বিচারক যে ব্যবহার করেছেন তা উচিত হয়নি। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। এখানে কে সরকারি দল আর কে বিরোধী দল তা বিবেচনা করা হয়নি।

তদন্ত না করেই বিচারককে দোষী বানিয়ে বদলি করা হলো কেন এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, পরিস্থিতি যাতে আরো খারাপ না হয় সেজন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক সাংসদ কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে দুর্নীতি মামলায় জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবদুল মান্নান। এর তিন ঘণ্টা পরই তাকে বদলি করে দেয়া হয়।

পরে তার স্থালাভিষিক্ত হয়ে ঘণ্টাখানেকের মধ্যে কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করেন যুগ্ম-জেলা জজ নাহিদ নাসরিন।

এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মুনসুর উদ্দিন আহমেদ বলেন, তাদের জামিন বাতিলের আদেশ দেয়ার পর পরই জেলা জজ আদালতের বিচারক আবদুল মান্নানকে বদলি করে দেয় আইন মন্ত্রণালয়। তার জায়গায় দায়িত্ব পান যুগ্ম-জেলা জজ। দায়িত্ব নেয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আউয়াল দম্পত্তিকে তিনি জামিন দেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কে এম এ আউয়াল এবং তার স্ত্রী জেলা মহিলা লীগ সভাপতি লায়লা পারভীনের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করে দুদক। এর মধ্যে একটিতে আউয়াল ও তার স্ত্রী লায়লা পারভীনকে আসামি করা হয়েছে। বাকি দুটিতে শুধু আউয়ালকে আসামি করা হয়।

sheikh mujib 2020