advertisement
আপনি দেখছেন

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ও ৩০ লাখ টাকার লোভে দ্বিতীয় শ্রেণী পড়ুয়া ইলমাকে খুন করার অনুমতি দেয় বাবা আবদুল মোতালেব। আজ সোমবার হত্যাকণ্ডের মূল আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডি এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।

father allowed murder of his daughter

বাহেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়তো ইলমা। তাকে হত্যা করার ঘটনাটি ২০১৫ সালের ২৭ মার্চের। এরপর ৩১ মার্চ তার বাবা বাদি হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন।

সোমবার মূল আসামি মাসুম মিয়াকে গ্রেপ্তারের পর সিআইডির উপমহাপরিদর্শক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, আসামি নিহতের আপন ফুপাত ভাই। নিহত ইলমা তার বাবার লোভের বলি হয়েছে। নরসিংদির বাহের চরে সাবেক মেম্বার বাচ্চু ও শাহজাহান ভূঁইয়া নামের দুই ব্যক্তির দ্বন্দ্ব চলছিল। সে দ্বন্দ্বে শাহজাহান ভূঁইয়ার লোকজন তাদের প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। তাকে হত্যার বিনিময়ে বাবা মোতালেবকে ৩০ লাখ টাকা দেয়ার প্রলোভনও দেয়া হয়। সেই টাকার লোভে পরে নিজের মেয়েকে হত্যার অনুমতি দেন তিনি। এখন পর্যন্ত ওই টাকার চার লাখ টাকা পেয়েছেন তিনি।

ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, মূল আসামি তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতের নাম বলেছে। সে মোতাবেক ইলমার বাবা আবদুল মোতালিব, মা মঙ্গলী বেগম, গ্রুপ লিডার শাহজাহান ভূঁইয়া, ইলমার দুলাভাই মো. বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইলমার মা মঙ্গলী বেগমকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি বলেন, সে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানতো। টাকার লোভে নিজের মেয়েকে খুন হতে দিয়েছেন। এ জন্য তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

হত্যাকাণ্ডটি কীভাবে সংঘটিত হলো তার বর্ণনায় সিআইডি উপমহাপরিদর্শক বলেন, ইলমাকে হত্যার পরিকল্পনাটি হয় ২০১৫ সালের ১ মার্চ। ওই দিন হত্যা পরিকল্পনার জন্য ১৩ জন বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে তারা ইলমাকে হত্যার বিনিময়ে তার বাবাকে ৩০ লাখ টাকার টোপ দেয়। এতে রাজি হয়ে যান তিনি।

তাকে রাজি করানোর মূল দায়িত্বটি পালন করে শাহজাহান ভূঁইয়া ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ইলমার ফুপাত ভাই মাসুম মিয়া। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক ২৭ মার্চ সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে ইলমাকে তুলে নিয়ে যায় মাসুমসহ ৬-৭ জন। তাকে ইট ও মুগুর দিয়ে মাথা থেঁতলে ও গলা টিপে তাকে হত্যা করা হয়। এ সময় নিহতের বাবা পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল বলে জানায় মাসুম।