advertisement
আপনি দেখছেন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের জীবাণু থাকার আশঙ্কায় গত তিন দিনে দেশের ১৭ জেলায় বিদেশফেরত ২১৫ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। এমতাবস্থায় এ ভাইরাস প্রতিরোধে দেশের প্রধান তিনটি আন্তজার্তিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ১৫টি এয়ারলাইন্সকে হুঁশিয়ারির সঙ্গে কড়া বার্তাও দেয়া হয়েছে।

corona virus photo

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী ১৫টি এয়ারলাইন্সকে তাদের যাত্রীদের মাঝে হেলথ ডিক্লারেশন ফরম বিতরণ এবং যথাযথভাবে ফরম পূরণ শেষে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিমান যাত্রীদের ওপর কড়া নজরদারিরও নির্দেশ দেয়া হয়।

বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১০ ও ১১ মার্চ এয়ারলাইন্সগুলোর কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ওই বৈঠকে এয়ারলাইন্সগুলোকে করোনা ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির কথা জানিয়ে নির্দেশনা তুলে ধরা হয়। এসব নির্দেশনা না মানলে এয়ারলাইন্সগুলোর প্রতিনিধিদের কড়া শাস্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়। এ সময় এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিরা নির্দেশনা মানাসহ বিমান যাত্রীদের ওপর কড়া নজরদারি করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এদিকে, বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনার কথা বৈঠক করে জানানোর পর এয়ারলাইন্সগুলোর তৎপরতা আগের চেয়ে বেড়েছে। বিমানন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও নড়েচড়ে বসেছেন।

জানা গেছে, বিদেশফেরত ২১৫ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকাদের মধ্যে কারো শরীরে এখনো করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে মানিকগঞ্জে ৭৯, নারায়ণগঞ্জে ৪০, মাদারীপুরে ৩০, কিশোরগঞ্জে ৩৪, ফেনীতে ৯, যশোরে ৬, ফরিদপুরে ৩ জন, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, বগুড়া ও নরসিংদীতে ২ জন করে এবং নোয়াখালী, খুলনা, সিলেট, জামালপুর, চুয়াডাঙ্গা ও দিনাজপুরে একজন করে ব্যক্তি হোম কোয়ারেন্টে রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা এসব হোম কোয়ারেন্টাইনে প্রধান পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যগত খোঁজখবর নিচ্ছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটি।

এর আগে গত ৮ মার্চ দেশে প্রথমবারের মতো করোনা আক্রান্ত তিনজন শনাক্তের কথা নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)।

sheikh mujib 2020