advertisement
আপনি দেখছেন

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কামরুন নাহার মনিকে নির্দোষ দাবি এবং তার মুক্তি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন মনির স্বামী। গতকাল বুধবার রাতে ফেসবুকে এই স্ট্যাটাস দেন রাশেদ খান রাজু।

nusrat murder moni husband

স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় মমতাময়ী মা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে লালন করে আপনার নেতৃত্বে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। জাতির জনকের স্বপ্নের বাংলাদেশ আজ খাঁটি সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হয়েছে। আপনার হাতেই রয়েছে মমতার পরশ আর শাসনের শক্তি। আপনি অসহায়দের জন্য মানবতার উদাহরণ।’

নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন অতি সাধারণ মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই দেশে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিয়ে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাঁচতে চাই। কিন্তু সত্য আর ন্যায় বিচারের কাছে হেরে গিয়ে আমি সেই নিঃশ্বাসটুকু আর নিতে পারছি না।’

নুসরাত হত্যা মামলায় স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার নির্দোষ স্ত্রী আর ৫ মাসের দুধের ছোট্ট বাচ্চা রাথী বিনাদোষে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে কারাগারের অভ্যন্তরে মৃত্যুর প্রহর গুণছে। জন্মের পর মাত্র ১ দিন স্বল্প সময়ের জন্য মেয়েটাকে কোলে নিতে পেরেছি। গত ৪ মাস ধরে ছোট্ট মেয়েটার নরম গাল ছুঁয়ে আদর করতে পারিনি। মেয়েটা জানে না সে কোথায়।’

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্জি জানিয়ে রাশেদ খান রাজু বলেন, ‘ছোট্ট মেয়েটা এই দেশ সম্পর্কে খারাপ ধারনা নেয়ার আগে আপনার সাহায্য চাই। ন্যায় বিচারের মাধ্যমে মনির মতো অসহায় নির্যাতিত নারীদের নির্মমতার হাত থেকে বাঁচান। আপনার ওপর শেষ ভরসা রাখতে চাই। আশা করি আপনি আমাদের হতাশ করবেন না।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। এছাড়া প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

এর আগে নুসরাত অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনলে তার মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে একই বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হলে নুসরাতের পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হয়।

পরে ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় যান নুসরাত। এ সময় তাকে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া হয়। এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

দণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামি হলেন- মাদ্রাসা অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ্দৌলা (৫৭), নুর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), মোহাম্মদ শামীম (২০), রুহুল আমিন (৫৫) ও মহিউদ্দিন শাকিলকে (২০) ।