advertisement
আপনি দেখছেন

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসের কারণে পতনের মুখে বিশ্ব অর্থনীতি। এরই মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া দেশগুলোর শেয়ার বাজারে ধস নেমেছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিদেশে রপ্তানি, প্রবাসীদের রেমিট্যান্স ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে সেই প্রভাব ইতোমধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

corona virus new

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বিশেষ করে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় খাত ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ছড়িয়ে পড়ায় তার প্রভাব এরই মধ্যে পড়তে শুরু করেছে।

শুধু ইতালিতেই ২০১৯ সালে ১৪৩ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। সেখানে করোনার প্রভাবে বর্তমানে মানুষজন ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে আছেন। এছাড়া একই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাকি দেশগুলোতেও। দেশের পোশাক রপ্তানির ৬২ ভাগ আসে ইউরোপ থেকে আর ১৮ ভাগ যুক্তরাষ্ট্র থেকে।

এ ব্যাপারে কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক বলেন, এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে শতকরা ৩ দশমিক ১ ভাগ বিক্রি কমে গেছে। ক্রেতারাও বাড়ি থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হচ্ছেন না।

সূচক নিম্নমুখী হতে চলেছে দেশের রেমিট্যান্স খাতেও। বাংলাদেশের রেমিটেন্সের সবচেয়ে বড় একটি অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও আসে। এই দেশগুলোতে ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমে গেছে। প্রবাসীরা ঠিকমতো আয় করতে না পারায় দেশে রেমিট্যান্সও পাঠাতে পারছেন না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ১০৪২ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি। কিন্তু করোনার প্রভাব এভাবে চলতে থাকলে সেই ধারাটি আর রক্ষা করা যাবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতির প্রধান দুই চালিকা শক্তি রপ্তানি ও রেমিট্যান্স। এই দুটির আয় কমে গেলে প্রভাব পড়বে শিল্প কারখানাগুলোতে কাজ করা শ্রমিকদের উপার্জনে। কারণ বিদেশে রপ্তানি কমে গেলে দেশে কর্মসংস্থানও কমে যাবে। উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে চাকরি হারাতে পারেন অসংখ্য শ্রমিক। দেশে বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

corona kuwait

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলছে, বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে অর্থনীতির গতি ধীর হয়ে যাবে। জিডিপির হার এক দশমিক এক ভাগ কমে যেতে পারে। এতে মোট ৩০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হবে। চাকরি হারাতে পারেন অন্তত ৮ লাখ ৯৪ হাজার ৯৩০ জন। এমনটা চলতে থাকলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য পূরণ করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লাভ

তবে এত খারাপ খবরের মধ্যেও কিছু সুবিধা হতে পারে। যেমন- দেশের জ্বালানি তেলের পুরোটাই বিশ্ব বাজার থেকে কেনে সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এখন আমদানি খরচ আগের চেয়ে অনেক কমে যাবে। সরকার যদি দামের সমন্বয় করতে পারে তাহলে শিল্পের উৎপাদন ও পরিবহন খরচ কমবে। এতে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতে পারে। আর যদি সরকার তেলের দাম না কমায় তাহলে এর পুরো সুবিধা ভোগ করবে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন।

পাশাপাশি করোনার কারণে চীন থেকে পণ্য আমদানি বন্ধ ও কমিয়ে দিয়েছে অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। বিকল্প হিসেবে তারা এখন বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকছে। সরকার যদি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে তাহলে বর্তমান সময়ে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা হলেও মোকাবেলা করা সম্ভব।