advertisement
আপনি দেখছেন

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজ রোববার আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করার পর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র ও স্পেশাল অফিসার ব্যারিস্টার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান।

jamat leader atm azharজামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম

তিনি বলেন, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

এদিকে, রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন না করলে ১৫ দিন পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এটিএম আজহারুল ইসলামের আইনজীবী শিশির মুহাম্মদ মনির বলেছেন, রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আইন মেনে রিভিউ আবেদন করা হবে।

এর আগে জামিন চেয়ে আবেদন করার প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আজহারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে ১২৫৬ ব্যক্তিকে গণহত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং শত শত বাড়ি-ঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয় এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে ট্রাইব্যুনালের রায়ে। সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটির (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) অভিযোগ ছাড়াও তিনি যে আলবদর কমান্ডার ছিলেন, তাও প্রমাণিত হয়েছে রায়ে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে আজহারকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিলসহ ২৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল দাখিল করেন। চলতি বছরের ১৮ জুন এই আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড জয়নুল আবেদীনের পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এ শুনানি শুরু হয়েছিল।