advertisement
আপনি দেখছেন

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরো একজন প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৯ জনে। আজ সোমবার জাতীয় রোগতত্ত্ব রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

dr sebrina flora iedcrকরোনাভাইরাসের আপডেট নিয়ে কথা বলেন আইইডিসিআরের পরিচালক মীরাজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মীরাজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। এ সময় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন নিয়ম-কানুন মেনে চলার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআরে ৪ হাজার ৭২৫টি কল এসেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৯৯৭টি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত। সারা দেশে মোট ১৫৩ জনের করোনার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে এক জনকে আক্রান্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, ২৪ ঘণ্টায় আগে আক্রান্তদের মধ্যে আরো চারজন সুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে এক জন চিকিৎসক ও এক জন নার্সও রয়েছেন। এর ফলে মোট ১৯ জন সুস্থ হলেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ পর্যন্ত দেশে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মরণঘাতী এ ভাইরাসটির সংক্রমণ ঠেকাতে ইতোমধ্যে আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া সকল ধর্মীয়, সামাজিক ও অন্যান্য অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় বন্ধ রয়েছে বাস, লঞ্চ ও ট্রেনসহ যাবতীয় গণপরিবহন। স্থগিত করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সকল ফ্লাইট। ওষুধ ও চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ছাড়া সকল ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেইসঙ্গে পোশাক কারখানাও বন্ধ ঘোষণা করা রয়েছে।

উল্লিখিত পদক্ষেপগুলোর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠে সাধারণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি রয়েছে সশস্ত্রবাহিনী। চলছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান।

শুরুতে করোনা রোগীর চিকিৎসার জন্য দেশে প্রয়োজনীয় উপকরণের স্বল্পতা থাকলেও তা বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে চীন থেকে কিট, মাস্ক ও অন্যান্য উপকরণ চলে এসেছে।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মরণাঘাতী এ ভাইরাসটিতে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ ২৩ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৩৪ হাজার। এ ছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়েছেন দেড় লাখের বেশি মানুষ।