advertisement
আপনি দেখছেন

ডায়রিয়াজনিত রোগ নিয়ে গবেষণার জন্য বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)। প্রতিষ্ঠানটির উদ্ভাবিত স্যালাইন বিশ্বের বহু মানুষের জীবন রক্ষা করছে। এ ছাড়া পুষ্টি, যক্ষ্মা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, কলেরার টিকাসহ নানা বিষয়ে নিয়মিত গবেষণা হয় এখানে। সরকারের সঙ্গে মিলে অনেক বিষয়ের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিবছর সরকার বড় অংকের সহায়তাও দেয় এটিকে।

icddrb corona test permissionরাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত আইইডিসিআর ভবন

কিন্তু গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পর এতদিনেও কোভিড-১৯ পরীক্ষার অনুমতি পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এক সপ্তাহ আগে শুধু প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মীদের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি দেয় সরকার। অবশেষে সেই অনুমতি মিললো। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিয়েছে আইসিডিডিআরবি। তবে এতে পরে কেন অনুমতি দেওয়া হলো তা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ গতকাল রোববার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের জন্য আইসিডিডিআরবিকে ১০০ কিট দেওয়া হচ্ছে। যদিও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কিট পৌঁছেনি বলে জানায় আইসিডিডিআরবি।

আইসিডিডিআরবির গণসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিকল্পনায় প্রতিষ্ঠানটিকে সম্পৃক্ত করায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ তারা। এখন থেকে কাদের পরীক্ষা করা হবে, কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হবে এবং পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কী করা হবে তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়।

তবে প্রবীণ ভাইরাস বিশেষজ্ঞ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মনে করছেন, করোনা রোগী শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় আইসিডিডিআরবিকে আগেই যুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ‘আইসিডিডিআরবির জৈব নিরাপত্তা ও সক্ষমতা আছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কেন এত দিন পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়নি, আমি জানি না।’

যেসব হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে জৈব নিরাপত্তা আছে, সে ধরনের সকল হাসপাতালে করোনাভাইরাসের পরীক্ষার ব্যবস্থা করার দাবিও জানান তিনি। তবে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম সতর্ক করে বলেন, ল্যাবরেটরিতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকলে কর্মীদের সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে।

বর্তমানে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত এ প্রতিষ্ঠানটি থেকে সামান্য দূরত্বে আইসিডিডিআরবির অবস্থান। এর আগে অনেক বিষয়েই উভয় প্রতিষ্ঠান একত্রে গবেষণা করেছে।