advertisement
আপনি দেখছেন

ঘরে বসে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছেন? ভাবছেন, প্রতিদিন দু’চারজন আক্রান্ত হওয়ার কারণে এভাবে পুরো দেশ বন্ধ করে দেওয়ার মানে কি? বলাবলি করছেন, এভাবে নষ্ট হচ্ছে পড়ালেখা, ব্যবসা বাণিজ্য, খারাপ হচ্ছে অর্থনৈতিক অবস্থা। বাইরে রেরুনোর জন্য তর সইছে না? তাহলে আপনার জন্যই নিচের এই পরিসংখ্যান।

world affected

তবে, পরিসংখ্যান দেওয়ার আগে একটু মনে করিয়ে দিই, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে বাংলাদেশে, ৯ জন। (এর আগে একদিনে সর্বোচ্চ ৬ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন) মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন। সর্বমোট আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৭০-এ। গতিটা যে বাড়ছে, নিশ্চয়ই আপনি বুঝতে পারছেন।

আমাদের দেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার এক মাস পূর্ণ হয়নি এখনো। যেসব দেশ এই মহামারির তাণ্ডবের মধ্যে অন্তত দুই মাস কাটিয়ে দিয়েছে তাদের অবস্থা কতটা ভয়াবহ তা ভাবাও কঠিন। সংক্রমণের সংখ্যা  জ্যামিতিক হারকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চোখের পলকে বেড়ে যাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

ইতালি: ইতালিতে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয় গত জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখে। মার্চের ১ তারিখে এসে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ১ হাজার ৭০১-এ। ঠিক পরের এক মাস অর্থাৎ এপ্রিলের প্রথম তারিখে ইতালিতে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১০ হাজার ৫৭৪-এ। এবার আসি মৃত্যুর পরিসংখ্যানে। দেশটি প্রথম মৃত্যু দেখে ২১ ফেব্রুয়ারিতে। ২২ মার্চে এসে মৃতের সংখ্যা পৌঁছায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার। আর এখন (বাংলাদেশ সময় শনিবার দুপুর আড়াইটা) ইতালিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৮১।

যুক্তরাষ্ট্র: আক্রান্তের দিক থেকে এই দেশটি সমস্ত  হিসেব-নিকেশ চুরমার করে দিয়েছে। এপ্রিলের ৩ তারিখে অর্থাৎ গতকাল ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ হাজারেরও বেশি মানুষ। কিন্তু তাদের শুরুটা হয়েছিল আমাদের মতোই। ১ মার্চ পর্যন্ত তাদের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৫। অথচ প্রথমজন শনাক্ত হয়েছিল তারও ২ মাস আগে। হিসেবটা দাঁড়িয়েছে এমন, প্রথম ৬০ দিনে আক্রান্ত ৭৫, তারপর গতকাল একদিনেই ৩২ হাজার! মনে রাখা দরকার, স্থিতিশীল থাকা ওই দুই মাসে সময়ের মধ্যে স্বয়ং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার বিষয়টা নিয়ে হেয়ালি করেছিলেন!

স্পেন: আক্রান্তের সংখ্যা পরে বলছি। করোনায় স্পেন প্রথম মৃত্যু দেখেছিল আজ থেকে ঠিক ১ মাস আগে, ৩ মার্চ। অথচ গতকাল দেশটিতে মৃতের সংখ্যা পৌঁছেছে ১১ হাজার ১৯৮-তে। ১৫ ফেব্রুয়ারিতে স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো মোটে ২ জন। ১৫ মার্চে সংখ্যাটা দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজারে। গতকাল ৩ এপ্রিলে সংখ্যাটা ১ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ জন!

চাইলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে শোচনীয় অবস্থায় থাকা সবগুলো দেশের উদাহরণ দেওয়া যায়। কিন্তু গল্পগুলো একই, ভয়ংকর আর হৃদয়বিদারক। আমরা যদি সেই অবস্থায় পৌঁছাতে না চাই তবে সতর্ক হওয়ার সময় এখনই।