advertisement
আপনি দেখছেন

নারায়ণগঞ্জের কোটিপতি ব্যবসায়ী খোকন সাহা। নিজের সাত তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। হাসপাতালে নেওয়ার সময় গত রোববার বাড়ির সিঁড়িতেই তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর সময় একটু পানি চেয়েছিলেন, কিন্তু করোনাভাইরাস সন্দেহে পরিবারের সদস্যরা পাশে দাঁড়িয়ে দেখলেও মুখে একটু পানি দিতে এগিয়ে আসেনি। নির্মম এই ঘটনাটি ঘটেছে গলাচিপা এলাকায়।

khokhon saha

কয়েকদিন ধরেই জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন খোকন সাহা। তিনি নিজে বিষয়টাকে গুরুত্ব দেননি, পরিবারের সদস্যরাও উদ্যেগ নেননি করোনা পরীক্ষা কিংবা হাসপাতালে ভর্তি করার ব্যাপারে। গত রোববার পরিস্থিতির অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। এমন সময় সিঁড়িতেই তার মৃত্যু হয়। নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার মুহূর্তে একফোঁটা পানি চেয়েও পাননি। এরপর মৃতদেহ ফেলে রেখে চলে যায় পরিবারের সদস্যরা!

দূরে চলে গিয়ে তারা ফোন দেয় স্থানীয় কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খোরশেদকে। তিনি জানান, করোনাভাইরাসে মৃত্যুবরণ করা আরেকজনকে কবরস্থ করতে ব্যস্ত আছেন, পরিবারের সদস্যরাই যেন মৃতদেহকে সৎকার করার ব্যবস্থা করে। কিন্তু তা না করে মৃত খোকন সাহার ভাই ও শ্যালক বারবার ওই কাউন্সিলরকে ফোন দিতে থাকেন। বাধ্য হয়ে বেশ কয়েকঘণ্টা পর কাউন্সিলর সেখানে গিয়ে দেখেন, তিন তলার সিঁড়িতেই পড়ে আছে মৃতদেহ। পরে তিনি অন্যান্য কয়েকজনকে নিয়ে মৃতদেহের সৎকার সম্পন্ন করেন।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর খোরশেদ জানান, এমন নির্মম ঘটনা দেখা তো দূরের কথা, শুনিওনি কোনোদিন। এ পর্যন্ত আমি নিজ হাতে করোনায় আক্রান্ত কিংবা সন্দেহে মৃত্যুবরণ করা ৩৪টি মৃতদেহ কবরস্থ করেছি, কিন্তু এমন ঘটনা এই প্রথম। মানুষ এতটা নির্মম হতে পারে তা কল্পনা করিনি। অথচ লোকটি অঢেল সম্পদের মালিক ছিল।

sheikh mujib 2020