advertisement
আপনি দেখছেন

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদীতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিম ছাড়া কমিয়ে দেয় মা মাছ। তবে চলতি বছর করোনাভাইরাসের কারণে মানুষ ঘরবন্দি থাকায় প্রাকৃতিক পরিবেশে ফের সৌন্দর্য্য ফিরে এসেছে। ফলে এ বছর বিপুল পরিমাণ ডিম পাবার আশা করছেন স্থানীয় জেলেরা।

halda river fishহালদা নদীতে বিপুল পরিমাণ ডিম ছাড়ার আভাস মা মাছের

ইতোমধ্যে হালদা নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ। অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে নদীর কয়েকটি স্পটে নমুনা ডিম ছাড়ে মাছগুলো।

স্থানীয় জেলেরা জানান, সাধারণত বজ্রসহ বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মা মাছগুলো ডিম ছাড়ে। বুধবার রাতে বৃষ্টিতে পুরোদমে ডিম ছাড়ার অনুকূল পরিবেশ ছিল। কিন্তু সেদিন রাতে মা মাছ ডিম ছাড়েনি। তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে ডিম ছেড়েছে। অনুকূল পরিবেশ পেলে শিগগিরই পুরোদমে ডিম ছাড়বে মা মাছগুলো।

এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ডিম সংগ্রহকারীরা এখন প্রতি জালে ১০০-১৫০ গ্রাম পর্যন্ত ডিম পাচ্ছেন। তাদের ভাষ্যমতে এগুলো নমুনা ডিম। নদীর কাগতিয়ার মুখ থেকে গড়দুয়ারা নয়াহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্পটে জাল ফেলে তারা এগুলো সংগ্রহ করেন।

halda river fish1নমুনা ডিম ছেড়েছে কার্প জাতীয় মা মাছ

জানা যায়, সাধারণত চৈত্র থেকে বৈশাখ মাসে অমাবশ্যা, পূর্ণিমা ও অষ্টমী তিথিতে প্রবল পাহাড়ি ঢল ও শীতল আবহাওয়া নেমে আসে। তখন কার্প জাতীয় মা মাছ নদীতে ডিম ছাড়ে। আর এর পূর্বে নমুনা ডিম ছাড়া প্রাকৃতিক প্রজননের জন্য প্রস্তুতের আভাস।

ডিম সংগ্রহকারীরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে অনাবৃষ্টি, মা মাছের মৃত্যু, দূষণ, চলমান তীর রক্ষা প্রকল্পের কাজে ড্রেজার ও নৌযান চলাচল বৃদ্ধির কারণে ডিমের পরিমাণ আশঙ্কাজনকহারে কমে যায়। তবে চলতি বছর প্রকৃতি সদয় থাকলে আরো বেশি ডিম ও রেণু মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

sheikh mujib 2020