advertisement
আপনি দেখছেন

আনিসুর রহমান নামে ২৩ বছর বয়সী এক যুবক করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হওয়ার বিভিন্ন লক্ষণ নিয়ে গত মঙ্গলবার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেস্ট করিয়েছেন। কিন্তু আগামী ৩০ জুন তাকে টেস্টের ফলাফল সংগ্রহ করার নির্দেশনা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ!

traching temparature of a womenতাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে এক নারীর

হতাশা প্রকাশ করে আনিসুর রহমান বলেন, আমার এখন জ্বর এবং কাশি আছে। এক মাস পরে প্রাপ্ত ফলাফল দিয়ে আমার কী হবে? এলাকায় ফিরে আমি স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করছি। আমি নিশ্চিত জানি না, আমার করোনাভাইরাস হয়েছে কি হয়নি।

আনিসুরের মতো সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেস্ট করাতে আসা অনেককেই ফলাফলের জন্য কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের ধারণ ক্ষমতার থেকেও বেশি মানুষ টেস্ট করাতে আসছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

waiting for being testedটেস্ট করাতে অপেক্ষা করছে মানুষ

সরেজমিনে দেখা গেছে, টেস্ট করাতে আসা অনেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সাভার আধার চন্দ্র সরকারি হাই স্কুলের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। জানা যায়, সেখানে যারা দাঁড়িয়ে আছেন, তাদের টেস্ট করানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হচ্ছে। যাতে পরে এসে নির্ধারিত দিনে টেস্ট করাতে পারেন।

কর্তৃপক্ষ জানায়, সেই লাইন থেকে প্রতিদিন ১০ জন মানুষ সরাসারি টেস্ট করাতে পারছেন।

স্কুলে ঢুকে কথা হয় সনি রহমান নামে এক গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে। তিনি বলেন, তার স্ত্রীর করোনাভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ১৮ মে থেকে তিনি এখানে ঘুরছেন। আজকে তার টেস্ট করানোর কথা। কিন্তু কখন হবে তা বলতে পারছেন না।

৩২ বছর বয়সী রনি আহমেদ বলেন, আমার তীব্র জ্বর আছে। আজ টেস্ট করাতে এসেছি। কিন্তু তারা আমাকে বলছে, আগামী ২৭ জুন এখানে এসে টেস্ট করাতে। সেদিন আসার আগেই যদি আমি মারা যাই?

উপায় না পেয়ে তিনি আইইডিসিআরে ফোন দিলেন। কিন্তু তাকে সেখান থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নম্বর দিয়ে দেয়া হয়েছে। রনি বলেন, তারা আমাকে বলল না এই পরিস্থিতিতে আমাকে কী করতে হবে।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শিমুল হুদা গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের এখানে দৈনিক সর্বোচ্চ ৬০ জনের টেস্ট করানো সম্ভব। কিন্তু আমরা এখানে দৈনিক ৯০ জনের থেকে নমুনা নিয়ে টেস্ট করানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমরা যদি এখানে একদিনে ৫০০ মানুষের টেস্ট করাতে পারতাম তাহলে অনেক সুবিধা হতো। আমরা স্থানীয় গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদেরকে অনুরোধ করেছি, তারা যেন এখানে আরেকটি ল্যাবের ব্যবস্থা করে দেয়।

sheikh mujib 2020