advertisement
আপনি দেখছেন

বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই অর্থবিল ২০২০ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

finance minister mustafa kamal cvঅর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল

আগামীকাল মঙ্গলবার মূল বাজেট পাশ করা হবে। তার পরদিন ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর ২০২০-২১।

এর আগে আজ কয়েকজন সংসদ সদস্যের সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে অর্থবিল পাস হয়েছে। অবশ্য তাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল না। এমনকি মোবাইলে কথা বলার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের যে দাবি ছিল, তাতেও পরিবর্তন আনা হয়নি। যদিও কয়েক দিন ধরেই এমন খবর প্রচার হয়েছে যে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এবং অর্থ বিল পাসের সময় সেটি সংশোধন করা হবে।

শুধু অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে ১০ শতাংশ কর দিয়ে ‘কালো টাকা সাদা’ করার সুযোগ দেয়া কথা বলা হয়েছিল। শর্ত ছিল, সেই টাকা ৩ বছরে পুঁজিবাজার থেকে বের করা যাবে না। সংশোধনে তিন বছরের জায়গায় এক বছর করা হয়েছে।

অর্থ বিলে সরকারি, বিরোধী দল জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির কয়েকজন সদস্য সংশোধনী প্রস্তাব আনেন। এসব প্রস্তাবের মধ্যে কিছু গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশীদ, মুজিবুল হক চুন্নু, মসিউর রহমান রাঙ্গা, আওয়ামী লীগের আবুল হাসান মাহমুদ আলী, আলী আশরাফের কয়েকটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।

bd parlament

সাধারণ অর্থবিল পাসের আগে বাজেটের ওপর নিজের সমাপনী বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী। নিয়ম অনুযায়ী, অর্থবিলে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে সে বিষয়ে অনুরোধ করেন। পরে অর্থমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ বিবেচনায় নিয়ে সেসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন।

কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো পরিবর্তন আনতে অনুরোধ করেননি। বাজেট বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়ন করা তেমন কঠিন কিছু নয়। আগের সব বাজেটই বাস্তবায়ন করতে পেরেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবারের বাজেটও বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবে সরকার।

বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল বলেন, করোনার কারণে যারা কাজ হারিয়েছেন, বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতী, বেদে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাওয়ালাসহ সকল পেশার মানুষ, পান দোকানি, চা দোকানি, মুদি দোকানি থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী, সকল শ্রেণী ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সকলের জন্য এই বাজেট।

তিনি বলেন, দেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দেয়া সম্ভব হয়নি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত। ছোট রাখা যেত বাজেট ঘাটতিও। কিন্তু বাস্তবতা যে বড় কঠিন। তাই সব জেনেশুনে আমরা এই কঠিনকেই ভালবেসেছি।

sheikh mujib 2020