advertisement
আপনি দেখছেন

মৃত্যুবরণ করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের অঘোষিত প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোর। আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহীর মহিষবাথানে বোন ডা. শিখা রানি বিশ্বাসের বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আপামর জনতা।

andrew kishor new

এদিকে কিংবদন্তি এই শিল্পীর মৃত্যুর আগের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। সেখানে শিল্পীর জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কীভাবে কাটিয়েছেন, সে সবেরই বর্ণনা করেছেন তিনি।

দীর্ঘ এই পোস্টে তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আমরা সিঙ্গাপুর যাই। সেখানে যাওয়ার পর কিশোরের শরীরে Diffuse Large B Cell Lymphoma (cancer in both Adrenal Gland) ধরা পরে। তারপর কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেয়া হয়। এগুলো চলতি বছরের এপ্রিল মাসে শেষ হয়। এরপর ডাক্তার আশা দিয়ে বলেন, এখন আর কোন কিছুর দরকার নেই। আগস্ট মাসে আবার আসতে বলেন।

১৩ মে দেশে আসার জন্য টিকেট কাটি। কিন্তু কিশোর ভয় পাওয়ায় টিকেট বাতিল করে দেই। সে শারীরিকভাবে খুবই দুর্বল ছিল। পরবর্তীতে ১০ জুনের টিকেট কাটি। কিন্তু ২ জুন হঠাৎ করেই কিশোরের হালকা জ্বর আসে। পরদিন রাতে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। তারপর হাসপাতালে ভর্তি করে বিভিন্ন ওষুধ দেয়া হয়। কোনো ওষুধই তার শরীরে কাজ করছিল না।

তখন হাসপাতালের চিকিৎসক ফোন দিয়ে বলেন, Lymphoma আবার ফিরে এসেছে কি না তা দেখতে PET SCAN করতে হবে। যদি সেটা ফিরে আসে, তাহলে দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়ে আরো দ্রুত সংক্রমণ ছড়াবে। আরো সেটা কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

লিপিকা এন্ড্রু বলেন, ৯ জুন PET SCAN করা হয়। সেদিন রাতে চিকিৎসক জানান, পরদিন সকাল ১০টায় পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে কথা বলতে চান। ওইদিন রাতটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর রাত, সারারাত ঘুমাতে পারিনি। সকাল ১০টার আগেই হাসপাতালে গিয়ে বসে থাকি। সে সময় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার জন্য কিশোর ডাক্তারকে বলতে বলেছিল। সে দেশে ফিরতে চায়। ওই মুহূর্তে আমি ভয়ে চুপ করে বসেছিলাম।

কিছুক্ষণ পর একজন নার্স এসে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তার জানালো Lymphoma ফিরে এসেছে। এ কথা শোনার পর কোনো কথা বলতে পারছিলাম না। চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি, বুঝলাম সব শেষ। তখন ডাক্তার কম্পিউটারের সামনে নিয়ে গেলেন। দেখলাম Adrenal Gland এ কিছু নেই। কিন্তু Lymphoma ভাইরাস ডান দিকের লিভার এবং স্পাইনালে ছড়িয়ে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অল্প অল্প আছে।

ডাক্তার জানালেন, এখন আর কিছু করার নেই। এ কথা শোনার পর চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকি, চোখ দিয়ে অঝোরে জল পড়ে যাচ্ছে। নিজেকে তখন এত অসহায় লাগছিল যে, কী করবো বুঝতে পারছিলাম না। কিশোর বুঝতে পেরে ডাক্তারকে বললো, আজই আমাকে রিলিজ করে দাও। আমি আমার দেশে গিয়ে মরতে চাই। কালই দেশে ফিরব।

তখন কিশোর আমাকে বলে, আমি তো মেনে নিয়েছি। সব ঈশ্বরের ইচ্ছা। আমি তো কাঁদছি না, তুমি কাঁদছ কেন? সে ওই মুহূর্তে খুবই স্বাভাবিক ছিল। মানসিকভাবে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। যেদিন থেকে জ্বর এসেছিল সেদিন থেকেই, যোগ করেন তার স্ত্রী।

কিংবদন্তি এই শিল্পীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, তার জন্য সবাই প্রাণ খুলে দোয়া করবেন, যেন কম কষ্ট পায়। সে শুধু আমার বা আমাদের সন্তানের বা আমাদের পরিবারের নয় বরং দেশের মানুষের সম্পদ। তাই এ কথাগুলো ভক্ত স্রোতাদের জানানো আমার দায়িত্ব।

sheikh mujib 2020