advertisement
আপনি দেখছেন

দেশে চলছে করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক সংকট। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। পর্যাপ্ত ল্যাব ও যথাযথ সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ব্যাপকহারে টেস্ট করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ দেশের এই ক্রান্তিকালের সুযোগ নিচ্ছে কিছু হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নানাভাবে জালিয়াতি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। এমনই একটি হাসপাতাল হলো রাজধানীর উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল।

saroer alam rab magistrateনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম

হাসপাতালটির বিরুদ্ধে করোনা শনাক্তের টেস্ট নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে। আর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার বিকেলে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডের ওই হাসপাতালটিতে অভিযান চালানো হয়।

এতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম।

অভিযান শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, রোগীদের কাছ থেকে করোনার নমুনা নিয়ে সেগুলো টেস্ট না করেই মনগড়া রিপোর্ট দিত হাসপাতালটি। হাসপাতালটির ল্যাবে গিয়ে এর তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

regent hospital dhakaরিজেন্ট হাসপাতাল

সারোয়ার আলম বলেন, কয়েক দিন ধরেই তাদের কাছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, সেখানে রোগীদের করোনার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু অসংখ্য নমুনা সংগ্রহ করা হলেও মাত্র ৪২০০ এর মতো নমুনা টেস্ট করেছে তারা। অথচ এর চেয়ে দ্বিগুণ নমুনা পরীক্ষা না করেই কোভিড-১৯ নেগেটিভ ও পজেটিভ রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, অভিযানের সময় ২৬ জনের নমুনা পাওয়া গেছে, যা পরীক্ষা না করেই ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভবনের পাশেই হাসপাতালটির আইটি শাখা। সেখানেই ভুয়া আইডি দিয়ে ভুয়া রিপোর্ট তৈরি করানো হয়। মানুষের সঙ্গে এভাবে প্রতারণা করে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও জানান র‌্যাবের এই ম্যাজিস্ট্রেট।

এ ছাড়া ভুয়া করোনার রিপোর্ট তৈরি ছাড়াও হাসপাতালটি রোগীদের কাছ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতো। যার তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্প্রতি এটিকে কোভিড বিশেষায়িত হাসপাতাল ঘোষণা করে। ইন-হাউজ রোগীদের করোনা পরীক্ষা ও চিকিৎসার অনুমতি দেয়া হলেও হাসপাতালের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করছিল দীর্ঘদিন ধরে। অভিযানে যেসব ভুয়া রিপোর্ট পাওয়া যায়, তার অধিকাংশই বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করা হয়।

অন্যদিকে, ২০১৪ সালের পর আর লাইসেন্স নবায়ন করেনি রিজেন্ট হাসপাতাল। তাছাড়া কোভিড টেস্ট বিনামূল্যে করার কথা থাকলেও তারা প্রত্যেক রোগীর কাছ থেকে ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করতো।

এ ঘটনায় হাসপাতালটির ব্যবস্থাপকসহ ৮ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। তবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. শাহেদ পলাতক।

sheikh mujib 2020