advertisement
আপনি দেখছেন

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ডা. বিজন কুমার শীল দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আনন্দের খবর দিয়েছেন। তিনি মনে করছেন, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আমাদের করোনা থেকে মুক্তি মিলবে। দেশে এখন করোনার সংক্রমণের পিক-টাইম চলছে এবং জনগণের একটা বড় অংশের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

dr bijon kumar ganasastoডা. বিজন কুমার শীল

দেশের মানুষের মধ্যে কী পরিমাণ এন্টিবডি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে তারা একটি জরিপ করেছেন। সেই জরিপের বরাত দিয়ে ডা. বিজন বলেন, তারা দেখেছেন- যে পরিবারের একজন কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। বর্তমান করোনা মহামারির মধ্যে এটি একটি আনন্দের সংবাদ।

এ ব্যাপারে তিনি আরো বলেন, জরিপে এও দেখা গেছে যে, কোনো পরিবারে কেউ একজন আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যদের মধ্যে করোনার উপসর্গও মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। অর্থাৎ মৃদু উপসর্গের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়েছেন, মানে তাদের দেহে পর্যাপ্ত এন্টিবডি তৈরি হয়েছে।

ganasasto kendra kit heldগণস্বাস্থ্য কেন্দ্র

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উদ্ভাবিত কিট প্রকল্পের প্রধান ডা. বিজন বলছেন, এই চিত্রটা তাকে আশান্বিত করেছে। কারণ দেশে যত মানুষ করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন, তার ১০ গুণ বেশি মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি এবং সংক্রমিত একজনের সংস্পর্শে আসা নিয়ে হিসাব করলে সংখ্যা বেশ বড় হবে। তবে সার্ভে না করে সেটা বলা ঠিক হবে না।

সরকারের এন্টিবডি টেস্টের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, শোনা যাচ্ছে সরকার এন্টিবডি টেস্ট শুরু করবে, এটি খুব ভালো খবর। সরকার যদি এমন উদ্যোগ নেয় এবং শুধু রাজধানীতেই এন্টিবডি জরিপ করা হয়, তাহলেই কত মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছে সেটা বোঝা যাবে। এটা একটা সুখবর।

dr bijon kumar shilসংবাদ সম্মেলনে নিজেদের উদ্ভাবিত কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট দেখাচ্ছেন ডা. বিজন, ফাইল ছবি

বিজন কুমার শীল, ‘আমি মনে করি, ঢাকা শহরের অনেক মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি রয়েছে। তবে সেটা জানা দরকার, না জেনে বলা যাবে না। আর সেটা জানা গেলেই মানুষের মধ্যে আতঙ্ক কমে আসবে। সেইসঙ্গে দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করা যাবে।’

এই বিশেষজ্ঞ বলছেন, যেসব এলাকা রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউন করা হয়েছে, সেখানেও জরিপ করা যেতে পারে যে, কতজনের দেহে এন্টিবডি উৎপাদন হয়েছে। আর সেটা করা গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মধ্যেও ভয়-ভীতি কমে যাবে। এসব এলাকায় এন্টিবডি গ্রো করা মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম হবে না বলে মনে করেন তিনি।

এন্টিবডি গ্রো করাকে আশীর্বাদ উল্লেখ করে এই বিজ্ঞানী বলেন, আমি মনে করি, আগে দেখা দরকার ঠিক কত মানুষের মধ্যে ইমিউনিটি বা এন্টিবডি এসেছে, কারণ এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। করোনার মহামারি কাটিয়ে উঠতে এই এন্টিবডিই আমাদের সাহায্য করবে। তাই যত বেশি সংখ্যক মানুষের মধ্যে এন্টিবডি তৈরি হবে, তত তাড়াতাড়ি এ থেকে মুক্তি মিলবে।

এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ‘খুব বেশি হলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আমরা করোনা থেকে মুক্তিলাভ করবো,’ বলেন ডা. বিজন। তবে আসন্ন ঈদুল আজহায় আরো বেশি মানুষ সংক্রমিত হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

sheikh mujib 2020