advertisement
আপনি দেখছেন

ঈদুল আজহা মানেই কোরবানি। আর সে কারণেই এই অঞ্চলে ঈদুল আজহা কোরবানির ঈদ নামে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতি বছর ঈদুল আজহায় সারাদেশে লাখ লাখ পশু কোরাবানি হয়। তাই এই দিনটিতে কসাই বা যারা পশুর চামড়া ছেড়ে মাংস কাটতে পারে, তাদের কদর বেড়ে যায়। দেশের অন্যান্য প্রান্তের মানুষ সাধারণত নিজেরাই কিংবা পাড়া প্রতিবেশী মিলে সে কাজ সম্পন্ন করে। কিন্তু বড় শহর, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় সে সুযোগ নেই।

butcher dhaka eid ul adhaগরু জবাইয়ের জন্য শোয়ানোর প্রস্তুতি, ফাইল ছবি

কোরবানির ঈদে তাই কসাই বা এই কাজে দক্ষ লোকের ‘মূল্য’ অনেক। অনেকে এই দিনটিকে কেন্দ্র করে গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে আসে এবং পশু কোরবানির পর তার মাংস বানিয়ে দিয়ে ভালো টাকা উপার্জন করে আবার গ্রামে ফিরে যায়। এমনই একজন কসাইয়ের নাম সোহেল কসাই। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার বাউফলের কালাইয়ায়। তবে তিনি গত প্রায় এক যুগ ধরে ঢাকাতেই থাকেন এবং কসাইগিরি করেন।

এবারের ঈদের দিনে তিনি আয় করেছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এদিন তিনি ৯টি গরু ও ৪টি ছাগল বানিয়েছেন (চামড়া ছেড়ে মাংস সাইজ করা)। এতেই তার ওই টাকা আয় হয়েছে। আর ঈদের দিনের এই উপার্জনকে তিনি আয় না বলে ঈদ বোনাস হিসেবে অভিহিত করছেন।

shohel butcher dhakaসোহেল কসাই

সোহেল কসাই বলেন, ঢাকার মাতুয়াইলে তার মাংসের দোকান আছে। কসাই হিসেবে তিনি বেশ সুপরিচিত। প্রতি বছর কোরবানির ঈদ মানেই তার আলাদা উৎসব। অর্থাৎ ঈদ তো এমনিই একটি উৎসব। সেইসঙ্গে দিনটিতে মোটা অংকের টাকা আয় তার একটি বড় উৎসব। তার ভাষায়, ‘ঈদকে কেন্দ্র করে আমরা কসাইরা উৎসবে মেতে উঠি।’

তিনি জানান, তার দলের সদস্য চার জন। অন্যান্য বছর ১৪ থেকে ১৫টি গরু কাটলেও এবার সেটা সম্ভব হয়নি। শনিবার তারা ৯টি কেটেছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে টাকা নিয়ে হাসি মুখে বাসায় ফেরেন তারা। তাছাড়া অনেকেই মজুরির বাইরে খুশি হয়ে মাংস দেন। আর সেটা তাদের বাড়তি পাওনা, বলেন সোহেল।

তিনি জানান, পশুর মূল্যের ওপর হাজারে এবার ১২০ টাকা করে মজুরি নিয়েছেন। অর্থাৎ লাখে যা দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। কেউ কেউ এর চেয়েও বেশি নিয়েছে। তবে হাজারে ১০০ টাকার কমে কেউ কাজ করেনি। শনিবার অন্যদের মধ্যে ব্যবসায়ী সেলিম রেজার গরু বানিয়েছেন তিনি। যে গরুর দাম ছিল ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

সেলিম রেজা বলেন, কসাই সোহেল প্রতি বছরই তার কোরবানির গরু কাটেন। মজুরি হিসেবে এবার তাকে হাজারে ১২০ টাকা করে দিতে হয়েছে। তিনি তার গরু কাটার মজুরি বাবদ মোট ১৪ হাজার ৮০০ টাকা দিয়েছেন।

sheikh mujib 2020