advertisement
আপনি দেখছেন

দেশে করোনার মহামারি ছড়িয়ে পড়ার পর চিকিৎসক হিসেবে এর প্রথম শিকার হন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার মঈন। এর পরই চিকিৎসকদের আবাসন সঙ্কট তথা নিরাপত্তা ইস্যু সামনে চলে আসে। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট তথা স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় হোটেল-মোটেল ভাড়া করে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। আর এই হোটেল-মোটেলের ভাড়া ও অন্যান্য যাবতীয় খরচ বহন করছিল সরকার।

doctors bardem hospitalসম্প্রতি বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন বারডেম হাসপাতালের চিকিৎসকরা

কিন্তু ঈদুল আজহার সময় চিকিৎসকদের হোটেলের বিল পরিশোধ করতে কয়েকটি হাসপাতালের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। হোটেলে রাখার পরিবর্তে বিশেষ ভাতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। নতুন এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ চিকিৎসকরা। তারা আশঙ্কা করছেন, আলোচনা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাদের পরিবার-পরিজন বা স্বজনরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

অন্যদিকে, চিকিৎসক নেতারা বলছেন, কর্তৃপক্ষ একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে চিকিৎসা সেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা ঘটতে পারে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, বিকল্প আবাসনের বিষয়ে আলোচনা করা হবে।

bma logoবিএমএ লোগো

প্রসঙ্গত, গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। আর করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির প্রথম মৃত্যু ঘটে গত ১৮ মার্চ। সংক্রমণের শুরু থেকে সামনের সারিতে অবস্থান করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্যকর্মীরা। আর এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৬৯ জন চিকিৎসক। মৃত্যুর তালিকায় আছেন ১১ জন নার্স ও ৬ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই বিকল্প চিন্তায় যেমন উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা, তেমনি এর সমালোচনা করেছেন চিকিৎসক নেতারা। বিএমএ (বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন) নেতারা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে ভুল বোঝাবুঝির তৈরি হবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে স্বাস্থ্য সেবায়।

এ ব্যাপারে বিএমএ সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দীন বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হোটেলের পরিবর্তে সরকারি দপ্তরের আবাসন সুবিধা কাজে লাগানোর কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে খরচ কমানো যায়।

এ বিষয়ে অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন মিঞা বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত আবাসন ব্যবস্থায় কেউ যদি থাকতে না চায় এবং নিজেদের বাসস্থানে থাকতে চায়, তারা থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। এ সব বিষয় নিয়ে তিনি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিবের সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান।

এদিকে, বিষয়টি নিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, সে সম্পর্কে আলোচনা করতে আজ মঙ্গলবার জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিএমএ।

sheikh mujib 2020