advertisement
আপনি দেখছেন

গত বছরের শেষ দিকে চীনের উহানে অস্তিত্বের জানান দেওয়ার পর আস্তে আস্তে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে মরণঘাতী করোনাভাইরাস। ইউরোপের যে দেশটি প্রথম এর তাণ্ডবের শিকার হয়, তা হলো ইতালি। ওই সময় দেশটিতে থাকা অনেক বাংলাদেশি দেশে চলে আসেন। এর পর দেশটির পরিস্থিতি মোটামোটি স্বাভাবিক হতে থাকলে আবারো ফিরতে থাকেন প্রবাসীরা। কিন্তু ততদিনে বাংলাদেশে শুরু হয়েছে করোনার মহামারি। ফলে যারা দেশটিতে ফিরে যান, পরবর্তীতে তাদের অনেকের শরীরে কোভিড-১৯ এর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়।

bangladesh airlines italy bangladeshiইতালি প্রবাসীদের জন্য আসছে সুখবর

এর পর গত ৬ জুলাই বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট ইতালির রোমে অবতরণ করে। ফ্লাইটটিতে থাকা বেশ কিছু যাত্রীকে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পর দিন ৭ জুলাই বাংলাদেশিদের জন্য এক সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা দেয় ইতালি সরকার। ওই ফ্লাইটে যারা ছিলেন, তাদের কাছে করোনার নেগেটিভ সার্টিফিকেটও ছিল। কিন্তু তার পরও করোনা শনাক্ত হওয়ায় দেশটির প্রথম সারি থেকে শুরু করে সকল গণমাধ্যম নানা নেতিবাচক সংবাদ প্রচার করে।

এ অবস্থায় গত ৮ জুলাই ১৫১ বাংলাদেশিকে নিয়ে কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইট দেশটিতে যায়। কিন্তু সেটিকে অবতরণ করতে না দিয়ে বাংলদেশে ফেরত পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত করে ইতালি সরকার। তবে শুধু বাংলাদেশিরাই যে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আছে তা কিন্তু নয়, বরং আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকরাও ইতালি সরকারের এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে আছেন।

bangladeshi in italyইতালি প্রবাসীদের জন্য আসছে সুখবর

রোমের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কয়েক হাজার বাংলাদেশিসহ অন্যান্য দেশের হাজার হাজার নাগরিক ইতালিতে প্রবেশ করতে পারছেন না। এ অবস্থায় তারা তাদের নিজ নিজ কর্ম বা চাকরি-বাকরি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। এমনই প্রেক্ষাপটে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশ মিশনসহ নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশগুলোর পক্ষ থেকে ইতালির সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগোযাগ ও তদবির অব্যাহত রয়েছে, যাতে নিষেধাজ্ঞা খানিকটা শিথিল করা যায়।

কূটনৈতিক সূত্রে যতদূর জানা যায়, তাতে বোঝা যাচ্ছে যে, ইতালীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধি-নিষেধ শিথিলের আভাস মিলেছে। দেশটির রাজধানী রোমের বাংলাদেশ মিশন এবং মিলান শহরের কনস্যুলেট অফিসের দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ও নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা অন্য দেশগুলোর নাগরিকদের সর্বশেষ যেসব নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে, তাতে ৯০ থেকে ৯৫ ভাগেরই রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। এ অবস্থায় দেশটির কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আভাস মিলেছে।

সূত্র আরো জানায়, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া বা শিথিল করার ঘোষণা আসতে পারে। আর সেটা (নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ) আগামী ১০ আগস্ট থেকে সর্বোচ্চ ৩১ আগস্টের মধ্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ব্যাপারে দিন-তারিখ চূড়ান্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যেই জানানো হতে পারে।

sheikh mujib 2020