advertisement
আপনি দেখছেন

গবেষণা করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষকরা প্রতি মাসে বেতনের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা করে পান। গত ১৫ বছর ধরেই এ টাকা পেয়ে আসছেন তারা। কিন্তু এই টাকা কেউই গবেষণার কাজে ব্যয় করেন না। বরং টাকাগুলো দিয়ে ‘বাজার-সদাই’ করে থাকেন শিক্ষকরা।

du logo new

সংশ্লিষ্টরা জানান, বেশির ভাগ শিক্ষকই গবেষণা না করে এই ভাতা ব্যক্তিগত কাজে খরচ করেন। মূলত গবেষণার জন্য এই ভাতার পরিমাণ খুব সামান্য হওয়াতেই এমনটা করেন তারা। তবে সবার মধ্যে না ভাগ করে শুধু যেসব শিক্ষক গবেষণা করতে আগ্রহী যদি তাদের এই ভাতা দেয়া হতো, তাহলে তা গবেষণার কাজে লাগতো। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, নবীন শিক্ষকদের গবেষণায় আগ্রহী করতেই এটি দেয়া হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, শিক্ষকরা প্রতি মাসে মূল বেতনের বাইরে পাঁচ হাজার টাকা করে গবেষণা ভাতা পান। কিন্তু এগুলো গবেষণার কাজে ব্যয় না হয়ে দৈনন্দিন খরচের সঙ্গেই যুক্ত হয়ে যায়। মাছ-মাংস হয়তো বা কেনা হয়। গবেষণার কোনো কাজে লাগে না।

বরং গবেষণার জন্য বরাদ্দ মোট অর্থ ১৩টি অনুষদের জন্য সমানভাগে ভাগ করে দিলে অর্থের পরিমাণটা অনেক বেশি হতো মনে করে তিনি বলেন, ধরা যাক- এক বছরে গবেষণা বরাদ্দ ৪০ কোটি টাকা। তাহলে প্রতি অনুষদ গড়ে তিন কোটি টাকা করে পেত। এক্ষেত্রে শিক্ষকদের কাছ থেকে গবেষণার প্রস্তাব বা বই প্রকাশের প্রস্তাব আহ্বান করলে সেখান থেকে যদি যাচাই-বাছাই করে ১০টি গবেষণা বা বই প্রকাশের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, তাহলেও প্রত্যেক অনুষদের অন্তত ৩০ জন শিক্ষককে অ্যাকাডেমিক গবেষণা অথবা বই প্রকাশনায় যুক্ত করা যেত। এতে করে গবেষণার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতো এবং অ্যাকাডেমিক পরিবেশটাও ফিরে আসতো।

akhtaruzzaman du vcঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান

গবেষণার জন্য অর্থ সব শিক্ষকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়ার পেছনে রাজনৈতিক কারণ আছে উল্লেখ করে এই অধ্যাপক বলেন, এটাকে সাফল্য হিসেবে দেখিয়ে এবং এভাবে শিক্ষকদের খুশি রাখতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে ভোট অনেকাংশে নিশ্চিত করা যায়। আর তাই যেসব শিক্ষক গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা আগ্রহী না, তারাও এই গবেষণার ভাতা পাচ্ছেন।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা বলেন, গবেষণা ভাতা হিসেবে প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে বেতনের সঙ্গে দিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু সামান্য এই টাকা দিয়ে কোনো গবেষণার কাজ হয় না। তাছাড়া যারা কোনো গবেষণা করেন না, তারাও এই টাকা পেয়ে থাকেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, প্রায় পনের বছর আগে এই ভাতা চালু করা হয়েছিল। মূলত গবেষণার জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত রাখতেই এই ভাতা দেয়া হয়। তাছাড়া সামান্য এই টাকা দিয়ে গবেষণা হবে, তা আশা করাও কঠিন।

sheikh mujib 2020