advertisement
আপনি দেখছেন

হাসপাতালে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনার আগে মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নেয়ার সিদ্ধান্ত স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম-দুর্নীতির চিত্র প্রকাশকে বন্ধ করার উপায় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। আজ শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

TIB logo

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিতে হবে এমন নির্দেশনা যেভাবেই ব্যাখ্যা করা হোক না কেন, এর পেছনে একাধিক বিষয় আছে। যদি পূর্বানুমতি লাগবে বলে ধরে নিই, তাহলে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে একটি অনুমোদন প্রক্রিয়া ও নির্দেশনার মাধ্যমে বলে দেয়া যায় যে, একটি কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। এক্ষেত্রে আইনের অপব্যবহার করা যাবে না।

তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অনুমতি লাগার অর্থ হচ্ছে, যারা এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন তাদের একাংশ মনে করছেন যে, চুনোপুঁটি টানাটানি করলে রুই-কাতলা বেরিয়ে আসতে পারে। যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এখানে যোগসাজশ বা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যে কারণেই হোক, এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় হতে পারে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, যেসব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব সৃষ্টি করেছিল, তাদের মধ্যে মোটেই আত্মবিশ্বাস নেই। কারণ তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বগুলো যথাযথভাবে, স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার সঙ্গে পরিচালিত হয় না। সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করলে ‘অভিযান’ শব্দটির কারণে তাদের শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

iftekharuzzaman tibট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান

তৃতীয়টি একটু হতবাক করার মতোই বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি বিষয় প্রকারান্তে বলে দিচ্ছে যে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ওপর অর্পিত যে দায়িত্ব, সেটি তারা যথাযথভাবে ও ক্ষমতার অপব্যবহার না করে পালন করতে পারবে বলে আস্থা মন্ত্রণালয়ের নেই।

দেশবাসীর একাংশের মধ্যে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কে আস্থাহীনতার সংকট আছে। আর তা অস্বীকার করা উপায় নেই। কিন্তু এটি এখন সরকার বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সিল দিয়ে বলে দিলো যে, আসলে আস্থা করার মতো প্রতিষ্ঠান আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা নয়, যোগ করেন এই কর্মকর্তা।

sheikh mujib 2020