advertisement
আপনি দেখছেন

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রভাবে সরকারের রাজস্ব আয় কমে গেছে। অধিকাংশ ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতির মুখে। তাই বাড়তি খরচ মেটাতে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে সরকারের। ইতোমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ২৬ দিনে ব্যাংক থেকে ছয় হাজার কোটি টাকার ওপর ঋণ নিয়েছে সরকার। সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

bangladesh bank dhakaঅতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের দিকে ঝুঁকছে সরকার

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক খাত থেকে ঋণ নেয় সরকার। গত বছর ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা গেছে। আর চলতি বছর করোনার মহামারি। সবমিলিয়ে লক্ষ্য অনুযায়ী রাজস্ব আসছে না। সঞ্চয়পত্রেও বিনিয়োগ কমে গেছে। তাই বাড়তি ব্যয় মেটাতে অতি মাত্রায় ব্যাংক ঋণ নির্ভরতায় ঝুঁকে পড়েছে সরকার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে এক লাখ নয় হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে সরকার। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ৮৪ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য ব্যাংক বহির্ভূত খাত থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকাসহ মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ২৬ দিনে (২৬ জুলাই পর্যন্ত) সরকার বেসরকারি ব্যাংক থেকে আট হাজার ২৮৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরকার কোনো ঋণ নেয়নি। উল্টো আগের নেওয়া ঋণের দুই হাজার ১৩৯ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ফলে সরকারের নিট ব্যাংক ঋণ দাঁড়িয়েছে ছয় হাজার ১৪৯ কোটি টাকা।

dolar or taka logo

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের খারাপ অবস্থা, রাজস্ব আয় ও সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়াসহ নানা কারণে বাড়তি ব্যয় মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে সরকার। অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে বেসরকারি ঋণ বাড়ানোর বিকল্প কোনো উপায় নেই। তবে সরকারের উচিত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি উৎস থেকে কম সুদে ঋণ আনার ওপর বেশি জোর দেওয়া।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়ালে বেসরকারি খাতে এর প্রভাব পড়বে। কারণ ব্যাংকের নির্দিষ্ট অর্থ থেকে ঋণ গেলে এক খাত বেশি পাবে তো অন্য খাতের অর্থ কমে যাবে। এক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে ভাবা উচিত বলে মনে করি।

sheikh mujib 2020