advertisement
আপনি দেখছেন

দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার পর অবশেষে বাতিল করা হলো 'খিচুড়ি রান্না শিখতে' সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ প্রকল্প। বুধবার গণমাধ্যমকে তথ্যটি জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার ঘোষ।

khichuri photoবাতিল করা হলো 'খিচুড়ি রান্না শিখতে' সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ

তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি বাতিল করে নতুনভাবে তা পুনর্গঠন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে করোনাকালীন নেয়া সব প্রকল্পেরই বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করা হচ্ছে। কারণ এই সময়ে অর্থ সাশ্রয় করা সরকারের জন্য খুবই জরুরি।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, করোনার কারণে এখন সব কিছুই সংকুচিত করা হচ্ছে। প্রকল্প পুনর্গঠন করে কোথাও ব্যয় কমানো হবে, আবার কোথাও বাড়ানোও হতে পারে।

এর আগে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন জানান, খিচুড়ি রান্না প্রশিক্ষণের জন্য নয়, বরং অন্যান্য দেশের স্কুলগুলোতে মিড ডে মিল (দুপুরের খাবার) কিভাবে বাস্তবায়ন করে, সে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এক্ষেত্রে মোট প্রকল্পের অতি অল্প অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে উল্লেখ করে আকরাম আল হোসেন বলেন, এ অর্থ ব্যয় কোনো অপচয় নয়, বরং অভিজ্ঞতা অর্জনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাটা রাখা হয়েছে। তাছাড়া প্রকল্পের কোনো অর্থ এখনো ছাড়া হয়নি। পরিকল্পনা কমিশন কিছু জিজ্ঞাসা পাঠিয়েছে, সেগুলোর জবাব পাঠানো হবে এবং সবশেষে একনেকে চূড়ান্ত অনুমোদন হবে।

planning commission

আগামী বছর থেকে সারাদেশে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার মোতাবেক সব স্কুলে দুপুরের খাবার দেয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা বাস্তবায়ন সঠিকভাবে করার জন্য ভারতসহ যেসব দেশ মিড ডে মিল চালু করেছে, সেসব দেশ থেকে অভিজ্ঞা অর্জনের জন্য এক হাজার কর্মকর্তার এ প্রশিক্ষণের কম্পোনেন্টা রাখা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বলেন, মন্ত্রিসভায় স্কুল ফিডিং পলিসি অনুমোদিত হয়েছে এবং এই পলিসির ভিত্তিতে ১৯ হাজার ২৯৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাচ্চাদের দুপুর বেলা দুই ধরনের খাবার দেয়া হবে। এর মধ্যে তিন দিন বিস্কুট এবং বাকি তিন দিন রান্না করা খাবার (খিচুড়ি, কারণ এটা সবচেয়ে প্রোটিন সমৃদ্ধ) সরবরাহ করা হবে।

যারা এটি বাস্তবায়ন করবেন তাদের সক্ষমতার জন্য প্রত্যেকটা প্রকল্পে দেশ এবং বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাই এই প্রকল্পের আওতায়ও এক হাজার কর্মকর্তাকে বিভিন্ন দেশের স্কুলগুলোতে পাঠানো হবে। সেখানে গিয়ে তারা দেখবেন, কিভাবে মিড ডে মিল চালু আছে এবং কিভাবে তারা বিষয়টি ম্যানেজ করছে। অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্যই বিদেশে কর্মকর্তারা গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসেন, যোগ করেন তিনি।

খিচুড়ি কিভাবে রান্না করে সেটার জন্য কিন্তু বিদেশে লোক পাঠানো হচ্ছে না উল্লেখ করে সচিব বলেন, এটা একটা বিশাল কর্মযজ্ঞ। ৬৫ হাজার ৬২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীর জন্য কিভাবে মিড ডে মিল চালু করতে হবে সেই ম্যানেজমেন্ট দেখার জন্যই আসলে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখা।

sheikh mujib 2020