advertisement
আপনি দেখছেন

মহামারি করোনাভাইরাসের এই সংকটের সময়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিও অনেকটাই ভেঙে গেছে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে কাজ করে যাচ্ছে সর্বমহলের মানুষ। অথচ এমন অবস্থার মধ্যেও মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে।

bd govt logoমন্ত্রীদের বিদেশ ভ্রমণ ভাতা বৃদ্ধি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং বিভাগে দেয়া মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এক চিঠিতে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ভ্রমণ ব্যয়ের বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। সেখানে খরচ কমানোর বদলে গত বছরের চেয়ে ৯৩ লাখ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। আগের বছর বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. সাইদুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রীদের জন্য ভ্রমণ ভাতা হিসেবে মোট ৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলো। এই অর্থ ভ্রমণ ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে খরচ করা যাবে না।

যদি এর বাইরে আরো অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর ভ্রমণ ব্যয়ের হিসাব মন্ত্রীপরিষদ বিভাগকে জানাতে হবে। কোন মন্ত্রণালয়ের জন্য কত বরাদ্দ সেটাও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপসচিব মো. সাইদুর রহমান বলেন, তিনি কিছু বলতে পারবেন না, কারো ছুটিতে বিকল্প হিসেবে স্বাক্ষর করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিসভা সেবা শাখার এক কর্মকর্তা জানান, মহামারি শুরু হওয়ার আগে গত মার্চ মাসে বাজেটে এই বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে বাজেট সংশোধনের সময় টাকা খরচ না হয়ে থাকলে বাড়তি টাকা ফেরত নেয়া যাবে।

এদিকে, বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনার ধাক্কা সামলে দেশের অর্থনীতি যখন আগের অবস্থায় ফেরার চেষ্টা করছে তখন রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যয়ের বিষয়ে সরকারের আরো সতর্ক হওয়া উচিত। সংকট পূরণে দেশের সম্পদ পুনর্বাসন ও আর্থিক নীতিমালা পুনরায় বিবেচনা করা দরকার।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রধানমন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতীয় সংকট বলে অভিহিত করেছেন। আর এই সংকট মোকাবেলা করে রাজস্ব সংগ্রহ সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় এ ধরনের খরচ বৃদ্ধি আর্থিক ও নৈতিকভাবে অনুপযুক্ত।

sheikh mujib 2020