advertisement
আপনি দেখছেন

২০১৭ সাল পর্যন্ত মোটামুটি সবকিছু ঠিকই ছিলো। প্রাইভেট কার চালিয়ে কোনোমতে কেটে যাচ্ছিল জীবন। একটু একটু করে গড়ে তুলেছিলেন সাজানো গোছানো সংসার। কিন্তু ওই বছরই হঠাৎ করে ইনফেকশন দেখা দেয় কানে। এরপরই বদলে যায় গাড়ি চালক মো. হাফিজুর রহমান রুবেলের জীবন।

rubel helpমো. হাফিজুর রহমান রুবেল

এক সময় জীবিকার তাগিদে প্রাইভেট কার চালিয়ে দেশের এ প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে ছুটে চলা রুবেল এখন হাসপাতালে বিছানায় শয্যাশায়ী। কানে ইনফেকশন থেকে একে একে দেখা দেয় বিভিন্ন জটিল রোগ। ছাড়েনি প্রাণঘাতী ক্যান্সারও। শুরুতে ধার-দেনা করে পরিবার তার কিছুটা চিকিৎসা করাতে পারলেও এখন অর্থাভাবে সেটাও প্রায় বন্ধের দিকে। এমনকি অর্থকষ্টে তিল তিল করে গড়ে তোলা তার সাজানো গোছানো সংসারটাও যেনো এখন মাটির সঙ্গে মিশে যেতে বসেছে।

রুবেলের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০১৭ সালে হঠাৎ তার বাম কানে ইনফেকশন দেখা দেয়। এরপর আস্তে আস্তে মুখ বেঁকে যাওয়া, চোখ থেকে পানি পড়া, ইনফেকশন হওয়া কানে শ্রবণশক্তি হারানোসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এভাবে মাস ছয়েক যাওয়ার পর তার মস্তিষ্কে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার।

টিউমারটি শরীর থেকে কেটে বাদ দেওয়ার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নির্ধারিত দিনে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে। শুরু হয় কাটা ছেঁড়া। কিন্তু অপারেশন চলাকালীন তার পালস বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যা দেখা দেয় হৃৎপিণ্ডে। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অপারেশন বন্ধ করতে হয় ডাক্তারদের। মাথার কাটা স্থান সেলাই করে পাঁচ দিন রাখা হয় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ)।

এর ৫-৬ মাস পর কিছুটা সুস্থ হলে রুবেলকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। কিন্তু নানা শারীরিক জটিলতার কারণে সেখানেও তার টিউমারটি মস্তিষ্ক থেকে কেটে বাদ দেওয়া যায়নি। অজ্ঞান করার পর অপারেশন থিয়েটার থেকে বের করে আনতে হয়। এর দুই মাস পর চিকিৎকের পরামর্শে তাকে নেওয়া হয় ভারতের বেঙ্গালুরুর ভিক্টোরিয়া মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে। তবে এবার চিকিৎসকরা সফলভাবে অস্ত্রপচার করে তার শরীরে থাকা টিউমারটির ৭০ শতাংশ অপসারণ করেন। কিন্তু এরই মধ্যে তার শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণঘাতী ক্যান্সার। তাই ওই অবস্থায়ই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

রুবেলের বাবা মো. আবিদুর রহমান জানান, বর্তমানে রুবেল কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ডাক্তাররা তাকে আবার ভারত নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসা করানোর মতো আর কোনো টাকা তার কাছে নেই। ছেলের এ অবস্থা তিনি আর দেখতে পারছেন না।

তিনি আরো বলেন, রুবেলে চিকিৎসার পেছনে এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা জোগাড় করেছেন ঋণ করে। চিকিৎসকরা বলছেন, রুবেলের টিউমারটির বাকি অংশ অপসারণ করতে আরো প্রায় ৩ লাখ টাকা লাগবে। কিন্তু এত টাকা এখন তিনি কোথায় পাবেন। এদিকে, রুবেলের একটি ছোট শিশু ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্ত্রীও রয়েছে।

তাই তিনি সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বানদের কাছে সন্তানের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়েছেন।

কোনো সহৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্য পাঠাতে চাইলে: ০১৭২৭৩৭৯৩৩৬ (নগদ ও বিকাশ, পারসোনাল), ০১৯৩১৬৪৫২০০ (বিকাশ, পারসোনাল), ব্যাংক হিসাব নম্বর : ২২৫৫১০১০৩৩৭৮৪, পূবালী ব্যাংক তালতলা বাজার শাখা, ময়মনসিংহ।

sheikh mujib 2020