advertisement
আপনি দেখছেন

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার গাড়ি ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসীর খন্দকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

manna car attack

জানা গেছে, খন্দকার বাড়িতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকারের জন্মদিন এবং বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে বক্তব্য দিচ্ছিলেন মাহমুদুর রহমান মান্না। ঠিক ওই সময় হামলার ঘটনা ঘটে।

তৈমুর আলম খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, অনুষ্ঠান চলার সময় হেলমেট পরে রামদা, লাঠিসোঁটাসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন লোক অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চারটি গাড়ি, মোটরসাইকেল, অনুষ্ঠানের মঞ্চ, সাউন্ড সিস্টেম ও চেয়ার ভাঙচুর করে।

হামলায় তার মেয়ে ব্যারিস্টার মারিয়াম খন্দকার, উপজেলা মহিলা দল নেত্রী ফাতেমা, বিএনপি নেতা পিন্টু আহমেদ, জেলা যুবদল সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলমসহ অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নির্দেশেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে, যোগ করেন তিনি।

manna car attack1

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বলেন, বিরোধী দলকে মারধর করার মতো রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা তাদের নেই। বরং বিএনপির মধ্যেই অনেক কোন্দল আছে। নিজেরা নিজেরাই এগুলো ভাঙচুর করেছে। এখন দায় আমাদের ওপর চাপাতে চাচ্ছে। অবশ্য তারা হামলার ঘটনায় আমাদের লোকজনের জড়িত থাকার প্রমাণ দিতে পারলে, দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার বলেন, গোলাম দস্তগীর গাজীর বাড়ির খাবারের দায়িত্বে থাকা ফিরোজ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে এই হামলায় অংশ নিয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ফয়সাল সিকদার, সহ-সভাপতি রিয়াদ, যুবলীগ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা পাভেলসহ আরো অনেকে।

mahmudur rahman manna newনাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না

বিষয়টি নিয়ে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার প্রায় শেষ দিকে ৪০ থেকে ৫০ জন ছেলে 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগান দিয়ে মঞ্চের দিকে আসে। এ সময় সেখানে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা আমাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। হামলাকারীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ জানানোর পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ আসেনি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অনুষ্ঠানস্থলে হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ওইখানে সরকারবিরোধী বক্তব্য দেয়া হচ্ছিল। তাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ ধরনের বক্তব্য দিতে নিষেধ করতে সেখানে যান।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে ভাঙচুর বা আহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং এ বিষয়ে কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। সেখানে পুলিশ সদস্যরা আছেন।

sheikh mujib 2020