advertisement
আপনি দেখছেন

মূর্তি বা ভাস্কর্য মানেই শিরকের উপকরণ নয় বলে যুক্তিসহ ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোট। আজ রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষে এ কথা জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান।

islami unity pressসংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সম্মিলিত ইসলামী জোটের নেতারা

তিনি বলেন, ভাস্কর্য স্থাপনকে মূর্তি স্থাপনের সঙ্গে তুলনা করে এটাকে শিরক সংস্কৃতি বা বিজাতীয় সংস্কৃতি বলে আখ্যা দেয়াটা মামা বাড়ির আবদার। কারণ মূর্তি বা ভাস্কর্য শিরক নয়। বাঙালি সংস্কৃতি বিজাতীয় সংস্কৃতি নয়। এটি আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। এখানে অনেক জিনিসই শিরক বা আল্লাহর সঙ্গে অংশীবাদিতার মিশ্রণ ছাড়াই পালিত হয়ে আসছে।

তাই মূর্তি বা ভাস্কর্যকে হঠাৎ করে শিরক সংস্কৃতি বলা নোংরা রাজনীতি ছাড়া কিছুই নয় মন্তব্য করে হাফেজ মাওলানা জিয়াউল হাসান বলেন, বুখারি শরিফে আছে, ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত। অর্থাৎ নিয়তের ওপর সকল কাজ নির্ভরশীল। হযরত আয়শা (রা.) এর ঘরেও ঘোড়ার ছোট মূর্তি ছিল। কিন্তু রাসূল (সা.) এ ব্যাপারে তাকে কিছুই বলেননি। কারণ ওই মূর্তি পূজার জন্য ছিল না।

সৌন্দর্য্য চর্চা ও রুচিশীলতার পরিচয় বা ঐতিহাসিক কোনো ঘটনার স্মৃতিফলক হিসেবে স্থাপিত ভাস্কর্য ইসলামি শিক্ষানুযায়ী নিষিদ্ধ নয় দাবি করে তিনি বলেন, ভাস্কর্য, প্রতিমা পূজা ও মূর্তি, এই তিনটি জিনিস এক নয়। পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করে বলা হয়েছে- 'তারা সুলায়মানের ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, ভাস্কর্যসদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং সুদৃঢ়ভাবে স্থাপিত ডেগ নির্মাণ করতো। আমি বলিলাম, হে দাউদ-পরিবার, কৃতজ্ঞতার সঙ্গে তোমরা কাজ করো, কারণ আমার বান্দাদের মধ্যে অল্পই কৃতজ্ঞ।' (সূরা সাবা-১৩)।

'প্রতিমা পূজার ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করে বলা হয়েছে- 'স্মরণ করো, ইব্রাহিম বলেছিলেন, 'হে আমার প্রতিপালক, এই নগরীকে নিরাপদ করে দাও। আমাকে ও আমার পুত্রগণকে প্রতিমা পূজা হইতে দূরে রাখিও।' (সূরা ইব্রাহিম-৩৫)। ভাস্কর্য এবং প্রতিমা পূজা, শব্দ দুটির অর্থকে বিকৃত করে যারা একই অর্থে মূর্তিকে ভাস্কর্য বানাতে চাচ্ছেন, তাদের বলবো অনুগ্রহ করে কোরআনের শব্দের অর্থকে ভুল ব্যাখ্যা করে মাঠ গরম করার চেষ্টা করবেন না।'

এ দেশের মানুষ আপনাদের (যারা ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে) ১৯৭১ সালে চিনতে ভুল করেনি। তাই এখনও করবে না। শহীদ মিনার, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং সাত জন বীরশ্রেষ্ঠের নামে স্থাপিত স্মৃতি ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে বাংলাদেশের মুসলমানরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারা কেউই সেখানে ইবাদত বা প্রার্থনার নিয়তে যান না। সেখানে জাতীয় ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়, যোগ করেন সম্মিলিত ইসলামী জোট সভাপতি।

ধর্মের নাম নিয়ে সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং গুজব রটিয়ে তাদের রাজপথে নামিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা ধার্মিকতার লক্ষণ নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেছেন।

তিনি বলেছেন, 'তোমরা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করবে না। কারণ ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে ইতোপূর্বে অনেক জাতি ধ্বংস হয়ে গেছে।'

sheikh mujib 2020