advertisement
আপনি দেখছেন

অবশেষে জামিন পেয়েছেন ফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল। তবে কেবল রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলায় তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। বাকি দুই মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর তারিখ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

journalist kajolফটোসাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজল

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় সাংবাদিক কাজলকে জামিন দিয়েছেন।

তার বিরুদ্ধে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর ও হাজারীবাগ থানায় দায়েরকৃত আরো দুটি মামলা রয়েছে। সেগুলোর জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর তারিখ ধার্য করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আজ একই সঙ্গে তিনটি মামলা শুনানির জন্য হাইকোর্টের কার্যতালিকায় ওঠে। আদালতে কাজলের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া ও আইনজীবী রিপন কুমার বড়ুয়া এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন।

bangladesh high court new 2019

পরে গণমাধ্যমকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় করা মামলায় সাংবাদিক কাজলকে জামিন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাকি দুই মামলার জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য তারিখ রেখেছেন হাইকোর্ট।

আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে। আর সেটা সম্ভব না হলে তদন্ত কর্মকর্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে অতিরিক্ত ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন। এরপরও তদন্ত শেষ না হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে লিখিত দিয়ে অনুমতি সাপেক্ষে আরো ৩০ দিন সময় নেয়া যাবে। কাজলের দুই মামলায় ইতোমধ্যে ৭৫ দিন অতিবাহিত হলেও তদন্ত শেষ হয়নি।

প্রসঙ্গত, একটি সংবাদ প্রকাশ হওয়ার প্রেক্ষিতে গত ৯ মার্চ দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরীসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর। ওই মামলার তিন নম্বর আসামি ছিলেন কাজল। কিছুক্ষণ পর কাজলের নামে আরেকটি মামলা করেন ক্ষমতাসীন দলের উসমিন আরা বেলি নামের এক নেত্রী। এই দুই মামলা হওয়ার পর দিন ১০ মার্চ নিখোঁজ হন কাজল।

নিখোঁজের পর দিন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। সন্ধান চেয়ে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তার স্ত্রী জুলিয়া ফেরদৌসি নয়ন। পরবর্তীতে নিউমার্কেট ও চকবাজার থানায় মামলা করতে চাইলে পুলিশ রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে কাজলের পরিবার হাইকোর্টের শরণাপন্ন হয়। তারপর ১৮ মার্চে মামলা নেয় পুলিশ।

নিখোঁজের ৫৩ দিন পর গত ২ মে গভীর রাতে যশোরের বেনাপোলের সাদীপুর সীমান্তে একটি মাঠ থেকে কাজলকে উদ্ধার করে অনুপ্রবেশের অভিযোগে বিজিবির করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে আটকে আছেন।

sheikh mujib 2020