advertisement
আপনি দেখছেন

প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে ঢাকায় একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে আজ মঙ্গলবার। মুজিববর্ষ উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এর আয়োজন করে ইন্ডিয়ান মিডিয়া করেসপনডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইমক্যাব)।

bangladesh india flag 1বাংলাদেশ ও ভারতের পতাকা

ভারতীয় গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের এ সংগঠনের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী ছিলেন বিশেষ অতিথি।

‘বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক’ শীর্ষক সেমিনারে বলা হয়, দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অতীতের চেয়ে অনেক গভীর হলেও তা যথেষ্ট নয়। উভয় দেশের সরকারের আন্তঃসম্পর্কের সঙ্গে নাগরিকদের সম্পর্কও বাড়ানো দরকার।

ঢাকা-দিল্লির এই সম্পর্কে যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের গণমাধ্যমে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশনের ওপর জোর দেয়া হয়।

সেমিনারে এসব বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী দুজনেই। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক হারুন হাবিব।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তে একাকার হয়েছে সঙ্গে ভারতীয় বাহিনীর রক্ত। পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়াসহ অনেক ঘটনা দু’দেশের সম্পর্ক গভীর করেছে।

seminar on bangladesh india relationsবাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সেমিনার

বঙ্গবন্ধু উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত গড়েন জানিয়ে তিনি বলেন, ৭৫-এর পর দিল্লির সঙ্গে বৈরিতা করে ভোটের রাজনীতি শুরু হয়। জিয়া-এরশাদ-খালেদা ভারতবিরোধী অপপ্রচার উষ্ণ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ফের নিবিড় করেন।

এ সময় করোনার টিকা উপহারের পাশাপাশি দিল্লির অবদান কখনো ভুলবার নয় বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষায় উভয় দেশের গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক আরো নিবিড় করার নির্দেশনা বঙ্গবন্ধুর ভাবনার মধ্যেই রয়েছে।

দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরো বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, বাণিজ্য, যোগাযোগসহ নানা ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। এতে দুই দেশই লাভবান হবে। এ জন্য নিবিড় সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য পরিবেশিত হওয়া জরুরি। এটি হলে নীতি-নির্ধারকদের যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পাশাপাশি মানুষের মধ্যেও সম্প্রীতি নিবিড় করার কাজ সহজ হবে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কে আগ্রহী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। এ ক্ষেত্রে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানসহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাস্তবতামুখী ছিলেন তিনি।

এ ছাড়াও সেমিনারে সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মনজুরুল আহসান বুলবুল, ফরিদা ইয়াসমিন ও কুদ্দুছ আফ্রাদ বক্তব্য রাখেন। প্রতিবেশী হিসেবে সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকে, তা সমাধানে আন্তরিক উদ্যোগের তাগিদ দেন তারা।

সেমিনারে ইমক্যাবের সভাপতি বাসুদেব ধর সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দেন স্বাগত বক্তব্য।

sheikh mujib 2020