advertisement
আপনি পড়ছেন

দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ময়দান শোলাকিয়ার মাঠের কাছে আজিমুদ্দিন হাইস্কুলের পাশে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, টহলরত পুলিশের উপর করা হয় এই হামলা। ককটেল বিস্ফোরণ ঘটনোর সেখানে গোলাগুলিও হয় বলে জানা গেছে। এতে দুই পুলিশ, এক নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত আরো ১৩ জন। আহতদের বেশির ভাগই পুলিশ সদস্য। এই ঘটনায় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।

solakia eidgah

এই এ ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জামাতের অনেকই ভয়ে ছোটাছুটি করেন বলে জানা গেছে। অবশ্য পরে নির্বেঘ্নেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হামলায় আহত হওয়াদের দ্রুত কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত পুলিশ কনস্টেবলের নাম জহুরুল হক। 

এছাড়া প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনাস্থলে ঝর্ণা রানি ভৌমিক নামের এক নারী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আহত আরেক পুলিশ সদস্য আনসারুল্লাহ ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়ার পথে মারা যান। নিহত আরেকজনের পরিচয় জানা যায়নি, তবে হামলাকারী হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আহত ছয়জন পুলিশকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন আহতরা স্প্লিটারবিদ্ধ, অবস্থা গুরুতর।

এদিকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত দুই পুলিশ সদস্যকে হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সিএমএইচে নেওয়া হয়েছে। বাকিরা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ দিকে এ ঘটনার বিষয়ে কিশোরগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার ওবায়দুল হাসান সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, 'ঈদগাহ থেকে সোয়া কিলোমিটার দূরে টহলরত পুলিশের উপর হামলা করে দুর্বৃত্তরা। বিস্ফোরকটি ঠিক কী ধরনের ছিলো, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।'

এলাকাবাসী জানায়, ঈদের জামাতের আগে শোলাকিয়া ঈদগাহ থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে এই ঘটনা ঘটে। সকার নয়টার দিকে মুসল্লিদের ঈদগাহে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আজিমুদ্দিন স্কুলের পাশে টহলরত পুলিশের ওপর হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এসময় মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য পরে নির্বেঘ্নেই ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শোলাকিয়া ঈদগাহের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন। তবে ঠিক কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই হামলা করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি। পুলিশ ইতোমধ্যে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

শোলাকিয়ার এই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে সাংবাদিকদের বলেছেন, 'ঈদের দিন নামাজ বাদ দিয়ে যারা মানুষ খুন করে তারা ইসলামের কেউ না। তারা মুসলমান নয়। এদের প্রতিহত করতে হবে।'

আপনি আরো পড়তে পারেন

রাজধানীতে ঈদের জামাত, কোথায় কখন

লাশ নিতে কেউ আসেনি

ক্ষমা চাইলেন রোহানের বাবা

গুলশানে বোমাতঙ্ক

চার রাষ্ট্রপ্রধানকে খালেদা জিয়ার চিঠি