advertisement
আপনি দেখছেন

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে অর্থ গচ্ছিত রাখা খুবই নিরাপদ। সারা পৃথিবীর ধনকুবেররা সেখানে অর্থ জমা রাখেন। কারণ গ্রাহকের তথ্য-পরিচয় গোপন রাখার ব্যাপারে তারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কঠোর নীতি গ্রহণ করে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশিদের অর্থের পাহাড় জমেছে সুইস ব্যাংকগুলোতে।

swiss bank new

সুইজারল্যান্ডের সংবিধান ও ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী, ব্যাংকের কোনো তথ্য প্রকাশযোগ্য নয়। তবে বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠছে ২০০২ সাল থেকে তারা একটি দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে মোট কত টাকা রাখা হয়েছে, সেই অঙ্কটা প্রকাশ করে আসছে। আগে এটুকুও প্রকাশ করা হতো না।

সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৭ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। প্রতিবেদনে অনুযায়ী, সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা রাখা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯১ কোটি টাকা (৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্র্যাংক)। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ, তালিকায় প্রথমে আছে ভারত।

bangladesh taka bundle

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশি আইনে কোনো নাগরিককে বিদেশের ব্যাংকে টাকা আমানত রাখার অনুমতি দেয়া হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিতেও এমন কোনো বিষয় উল্লেখ করা নেই। ফলে সুইচ ব্যাংকের এসব অর্থগুলো সম্পূর্ণই দেশ থেকে পাচার করা হয়েছে। গত বুধবার (১৬ জুন) এসব অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল।

সুইচ ব্যাংকের নিয়মানুযায়ী, কোনো গ্রাহক যদি দেশের পরিচয় গোপন করে অর্থ জমা রাখেন তাহলে প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে সেই অর্থ অন্তর্ভূক্ত করা হবে না। এর অর্থ হল, দেশগুলোর নামে জমা পড়া যে পরিমাণ অর্থের কথা বলা হয় বাস্তবে তা আরও অনেক বেশি।

অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই নিজের নাগরিকত্বের কথা গোপন রাখেন। এভাবে কালো টাকার নিরাপদ দূর্গ হয়ে উঠেছে সুইচ ব্যাংকগুলো।