advertisement
আপনি দেখছেন

জাতীয় জরুরি সেবার হটলাইন ৯৯৯-তে এক তরুণীর অদ্ভুত রকমের একটি ফোন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। কল করা ব্যক্তি ৩ জনকে খুন করার কথা জানিয়ে বলছিলেন, তাড়াতাড়ি আসেন, নইলে আরো ২ জনকে খুন করব।

dhaka mapঢাকার মানচিত্র

এমন কলে পাওয়া ঠিকানা অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থল রাজধানীর জুরাইনের মুরাদপুরে যায় কদমতলী থানা পুলিশ। সেখানকার একটি বাসা থেকে এক ব্যক্তি, তার স্ত্রী ও তাদের এক মেয়ের লাশ উদ্ধার করেন তারা।

নিহতরা হলেন- গৃহকর্তা মাসুদ রানা (৫০), গৃহকর্ত্রী মৌসুমী ইসলাম (৪২) ও মেয়ে জান্নাতুল (২০)। ওমান থেকে তিন মাস আগে ফিরেছেন মাসুদ রানা।

kadamtali thana dmpকদমতলী থানা

পুলিশ বলছে, কল দেওয়া ওই তরুণী নিহত দম্পতির আরেক মেয়ে মেহজাবিন (২৪) বলে শনাক্ত করা হয়। এরইমধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ওই বাড়ি থেকে তার স্বামী শফিকুল ইসলাম (৪০) ও তাদের শিশুকে (৪) অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে।

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে কদমতলী থানার ওসি জামাল উদ্দিন মীর জানান, পরিবারের সবার প্রতি ক্ষোভ থেকে কৌশলে সকলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রথমে অচেতন করেন মেহজাবিন। পরে একে একে তিন জনকে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি।

dhaka city imageঢাকা শহর, ফাইল ছবি

একই ধরনের বক্তব্য এসেছে হত্যাকারী হিসেবে শনাক্ত মেহজাবিনের স্বামী শফিকুলের কাছ থেকেও। তিনি হাসপাতালে বসে জানান, গতকাল রাতে তার স্ত্রী চা দিলে তা পানের পর থেকে কিছু মনে নেই।

হত্যাকাণ্ডটি খতিয়ে দেখা এবং মেহজাবিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। মেহজাবিনের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, তার মা তাকে ও তার ছোট বোনকে (নিহত) দিয়ে অসামাজিক কাজ করাতেন।

এ নিয়ে প্রতিবাদ করার পরেও কোনো কাজ হয়নি উল্লেখ করে জানানো হয়, ছোট বোনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে তার স্বামী। বাবাও ওমানে আরেকটি বিয়ে করেছেন।