advertisement
আপনি দেখছেন

দীর্ঘদিন নীবর থাকার পর হঠাৎ করেই রুদ্ধদ্বার ম্যারাথন বৈঠক করেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল, বিএনপি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত ১০ দিনের এসব বৈঠকের এক একটির স্থায়িত্ব ছিল গড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘণ্টা। সিরিজ বৈঠকে দলটির নানা স্তরের নেতা ও পেশাজীবী মিলে ৪২২ জন মোট ৪৫ ঘণ্টা বক্তব্য বা মতামত দেন।

bnp logo tiltedবিএনপির দলীয় পতাকা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের লন্ডন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এসব রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে কিছুই প্রকাশ করা হয়নি বরং গণমাধ্যমে নেতাদের কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। ফলে বৈঠকগুলোর আলোচনা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিকসহ নানা মহল এক ধরনের ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে।

বিএনপি সূত্রে এখন পর্যন্ত যেটুকু জানা গেছে, তাতে ১০টি বৈঠকে মোটাদাগে আলোচনা হয়েছে- আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচনে অংশ না নেয়া, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে কঠোর আন্দোলনে নামা, সরকারবিরোধী আন্দোলনে শীর্ষ নেতাদের রাজপথে সক্রিয় অংশ নেয়া, জোটগত আন্দোলন না করে বৃহত্তর যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলা, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে সক্রিয় না করা এবং সব মহলের সাড়া পেতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গ ছাড়া।

bnp meeting 3বৈঠকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা, ফাইল ছবি

এ ছাড়া বিএনপিকে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ করতে পুনর্গঠন করা, কূটনৈতিক উইংকে আরো সক্রিয় করা, দলীয় লোকের পাশাপাশি আন্দোলনে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো, যে কোনো মূল্যে আন্দোলনকেন্দ্রিক সহিংসতা এড়িয়ে জনগণের আতঙ্ক কমানোর পরামর্শ আসে বিএনপির ধারাবাহিক বৈঠকগুলোতে।

দলীয় সূত্র বলছে, আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় সম্ভাব্য রাজনৈতিক কৌশল, আন্দোলনের কর্মসূচি, সব স্তরে দলকে চাঙ্গা করা এবং ভবিষ্যতে করণীয় ঠিক করতে সিরিজ বৈঠক করা হয়। এসব বৈঠকে দীর্ঘদিন পর বিভিন্ন ইস্যুতে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ পান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

তিন দফার বৈঠকের মধ্যে প্রথম দফায় ১৪-১৬ সেপ্টেম্বর ও দ্বিতীয় দফায় ২১-২৩ সেপ্টেম্বর ৩ দিন করে মোট ৬ দিন বৈঠক করে বিএনপি। এসব বৈঠকে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদকমণ্ডলী, নির্বাহী কমিটির সদস্য, সাংগঠনিক জেলা ও অঙ্গ-সহযোগী সংস্থাগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।

bnp meeting 4বিএনপির একের পর এক বৈঠক, ফাইল ছবি

তৃতীয় দফায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত দল সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ ৪৮টির বেশি পেশাজীবী সংগঠনের নেতা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তিন দফার প্রতিটি বৈঠকে দলটির মহাসচিব ছাড়াও স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য নিয়মিত অংশ নেন।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা তিনজন নেতা জানান, তৃণমূল নেতাদের থেকে পরামর্শ ও নির্দেশনা পেয়েছেন তারা, আগামীতে দলীয় নীতিনির্ধারণে যা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকারি রোষানলে চুপসে যাওয়া নেতাকর্মীদের মনোবলও চাঙ্গা হয়েছে, যা সামনের আন্দোলনে কাজে দেবে। কেননা, বৈঠকগুলোতে দেয়া মতামতের ভিত্তিতে সবকিছু নির্ধারিত হবে।

এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, তা পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে জানান তিনি।