advertisement
আপনি দেখছেন

গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে, কুমিল্লার একটি মন্দিরে মূর্তির পায়ের নিচে পবিত্র কোরআন রেখে অবমাননা করা হয়। এ নিয়ে দিনভর উত্তপ্ত ছিল কুমিল্লা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয় স্থানীয়দের। এরপর ‘কোরআন অবমাননা’র অভিযোগ এনে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে শুরু হয় তীব্র উত্তেজনা।

mondir hazigonjহামলার পর হাজীগঞ্জের একটি মন্দির

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে হাজীগঞ্জের বিভিন্ন মন্দিরে হামলা চালায় একদল লোক। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গুলি করতে বাধ্য হয় পুলিশ। এতে ৩ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত হওয়ার কারণ হিসেবে পুলিশের গুলির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

ঘটনার পর গত রাতেই হাজীগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এছাড়া সেখানে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হাজীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানিয়েছেন, আমরা আর কোনো সংঘর্ষ চাই না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাই।

কুমিল্লার পর চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ হয়ে এই ঘটনা ছড়িয়ে পড়েছে নোয়াখালী এবং চট্টগ্রামে। নোয়াখালীর হাতিয়া এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ‘কোরআন অবমাননা’র অভিযোগে মিছিল বের করে স্থানীয়রা। সেখানেও মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ মিছিলগুলো ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিজিবি মোতায়েন করার কথা জানানো হয়।