advertisement
আপনি দেখছেন

করোনাকালে বেতন কাটা অব্যাহত রাখায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলটরা। তারা চুক্তির বাইরে কাজ না করায় যথাসময়ে আকাশে উড়েনি সংস্থাটির কয়কটি ফ্লাইট। গতকাল থেকে চলা এই অচলাবস্থা দূর করতে আজ মঙ্গলবার বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বৈঠক করেন পাইলটরা।

biman bangladesh airlince newবিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট, ফাইল ছবি

এ সময় বেতন কাটার সমস্যা সমাধানে আবারো আশ্বাস দেয়া হলে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন পাইলটরা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পাইলট অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তবে এ নিয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাপা সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, করোনার ১৮ মাসসহ এখনো কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বিমানের পাইলটরা। তারপরেও পাইলটদের বেতনের একটি বড় অংশ কেটে রাখা হচ্ছে। এটি বৈষম্যমূলক, যার একটা সমাধান হওয়া জরুরি। এ নিয়ে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে বসেছিলেন তারা।

biman bangladesh airlines logoবিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ফাইল ছবি

বৈঠকে বিমান কর্তৃপক্ষের দেয়া আশ্বাসে আশাবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের সভা কয়েকদিনের মধ্যেই হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে পাইলটদের বেতন কাটার বিষয়টি উত্থাপন করা হবে, দেখা যাক সেখানে কি ফলাফল আসে।

এর আগে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেতন সমন্বয় করা না হলে ফ্লাইট না চালানোর আল্টিমেটাম দেন পাইলটরা। তারা জানান, বিষয়টি সামাধান না হলে কেবল বিমান ও বাপার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ চুক্তির বাইরে ফ্লাইট পরিচালনা করবেন না পাইলটরা।

এতে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফ্লাইট চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কায় দ্রুত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিল বিমান কর্তৃপক্ষ। পরে সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে আগের মতো কাজে যোগ দেন পাইলটরা।

বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনাকালে পাইলটদের ছাঁটাই না করে কিছু সংখ্যকের বেতন কাটা হয়েছে। তাছাড়া অধিকাংশ পাইলটের বেতন সমন্বয়ও করা হয়েছে। এর চেয়ে মানবিক সিদ্ধান্ত আর কী হতে পারে? এর আগে চলতি বছরের মে-তে বিমানে কর্মরতদের বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গত ১৩ জুলাই এক অফিস আদেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাটার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে বহাল থাকে পাইলটদের ২৫-৫০ শতাংশ বেতন কাটার সিদ্ধান্ত।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিমানে বর্তমানে ১৫৯ জন পাইলট রয়েছেন। তাদের মধ্যে চাকরির বয়স শূন্য ৫ বছর হলে মাসে বেতন পেয়ে থাকেন ২ লাখ ৬ হাজার টাকা, ৫-১০ বছর হলে ৫ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ১০-২০ বছর পর্যন্ত ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২০ বছরের বেশি হলে ১২ লাখ ১ হাজার টাকা। এর বাইরে বোয়িং-৭৭৭ পরিচালনায় চুক্তির আওতায় থাকা পাইলটরা সাড়ে ৬ লাখ টাকা বেতন পান মাসে।