advertisement
আপনি দেখছেন

দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটেছে পায়রা সেতু উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গত রোববার (২৪ অক্টোবর) এর উদ্বোবন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু নতুন এই সেতুতে যানবাহন চলাচলে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটা ফেরির চেয়ে আড়াই থেকে সাতগুণ বেশি। এ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহন শ্রমিক-মালিকরা।

payra bridgeপায়রা সেতু

সমুদ্র শহর কুয়াকাটার সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পায়রা সেতু উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে থাকবে। তাই স্বাভাবিকভাবেই এ নিয়ে উচ্ছ্বসিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। কিন্তু এমন টোলের কথা শুনে রীতিমতো ভড়কে গেছেন তারা। পরিবহন মালিকরা জানাচ্ছেন, এভাবে আর কয়েকদিন চলতে থাকলে ভাড়া বেড়ে যাবে। বেড়ে যাবে এদিক দিয়ে চলাচল করা পণ্যের দাম।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতু চালু হওয়ার আগে ফেরিতে একটি বাসের ভাড়া দিতে হতো ৯৫ টাকা। এখন টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪০ টাকা। ফেরিতে একটি ট্রাকের ভাড়া ছিল ১০০ টাকা। সেতু চালুর পর টোল গুনতে হচ্ছে ৭৫০ টাকা, অর্থাৎ সাতগুণেরও বেশি। ফেরিতে মাক্রোবাসের ভাড়া ছিল ৪০ টাকা, এখন টোল আদায় হচ্ছে ১৫০ টাকা।

একজন পরিবহন শ্রমিক বলছেন, পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, আগের ফেরিই ভালো ছিল। এটা ঠিক যে, ফেরিতে অনেক সময় নষ্ট হতো, কিন্তু সেতুতে যে হারে টোল বাড়ানো হয়েছে, এটা অস্বাভাবিক। এভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পর বাড়তি টাকাটা যাত্রীদেরকেই বহন করতে হবে। ট্রাকের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই বেড়ে যাবে পণ্যের দাম।

বরিশাল-পটুয়াখালী বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন জানান, পায়রা সেতুতে যে টোল নির্ধারণ করা হয়েছে সেটা অস্বাভাবিক। এমন চড়া টোলের হার পুনর্বিবেচনা করতে আমাদের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সেতু কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দেখা যাক, তারা কী পদক্ষেপ নেয়। সে অনুযায়ী আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

প্রসঙ্গত, পায়রা সেতু নির্মাণ করতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশ সরকার ও কুয়েত ফান্ড ফর আরব ইকোনমিক ডেভেলপমেন্টের যৌথ অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করেছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘লংজিয়ান রোডস অ্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি’। সেতুটিতে রয়েছে ‘ব্রিজ হেলথ মনিটর’। ভূমিকম্প কিংবা সেতুর জন্য ক্ষতিকর ভারী যানবাহন সেতুতে উঠতে গেলে এটি সংকেত দেবে।

বরিশাল-পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের লেবুখালী নদীর ওপর নির্মিত এই পায়রা সেতু চার লেনের। দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৭০ মিটার। সংশ্লিষ্টরা জোর দিয়ে বলছেন, এই সেতুর ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনমান সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে। সেখানকার কৃষি ও মৎস্যশিল্পে বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া পর্যটননগরী কুয়াকাটার কদর ভীষণভাবে বেড়ে যাবে।