advertisement
আপনি দেখছেন

বিভিন্ন প্রকার অনিয়ম আর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সাম্প্রতিক সময়ে খবরের শিরোনাম হচ্ছে দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো। এর মধ্যে অন্যতম একটি ই-অরেঞ্জ। গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের বাঁচাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা বিক্রি করেছে কর্তৃপক্ষ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এই তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

e orange sohel ranaই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক সোহেল রানাকে আটক করা হয় ভারত থেকে

চলতি বছরের শুরুর দিকে ই-অরেঞ্জের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে গ্রাহকদের আন্দোলনের ঘটনা ঘটে গত আগস্টে। তার বেশ কয়েকমাস আগেই মালিকানা বদলের বিষয়টি সম্পন্ন হয়। প্রতিষ্ঠানটির মূল মালিক পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানার বোন সোনিয়া মেহজাবিনকে বাঁচাতেই এমন অপকৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়।

যার কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে, তার নাম বিথি আক্তার। ২০ বছর বয়সী এই নারী ই-অরেঞ্জের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) আমান উল্লাহর বান্ধবী। ই-কমার্সের ব্যাপারে কোনো ধারণা না থাকা সত্ত্বেও তার কাছে মালিকানা হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তাকে কোনো টাকা পরিশোধ করতে হয়নি। উল্টো বিথি আক্তার পেয়েছেন নগদ অর্থ এবং ইউরোপে বসবাসের প্রতিশ্রুতি।

e orange mashrafeeই-অরেঞ্জের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ছিলেন মাশরাফি

মূল মালিকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটির অধিকাংশ অর্থ আত্মসাৎ করে যখন বিথি আক্তারের হাতে মালিকানা হস্তান্তর করে গা ঢাকা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই গ্রাহকরা আন্দোলনে নামে। এক পর্যায়ে মামলার প্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার হন প্রতিষ্ঠানটির মালিক-পরিচালকদের অনেকেই। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে মালিকানা বিক্রির এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা যায়, বিভিন্ন পণ্যের অর্ডারের বিপরীতে গ্রাহকরা যে অর্থ জমা দিয়েছেন, সেই অর্থ রীতিমতো লোপাট করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দুটি ব্যাংক হিসাব থেকে বিভিন্ন সময় তুলে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯ কোটি টাকা।

একটি অ্যাকাউন্টে গত ২০ জুলাই পর্যন্ত জমা পড়েছে ৬২০ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ৭২৯ টাকা। এই অর্থ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে ৬২০ কোটি ৪৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৯২ টাকা। অর্থাৎ, ওই অ্যাকাউন্টটাতে মাত্র সাড়ে ২২ লাখ টাকার মতো আছে। বাকি সব টাকা কোনো খাত না দেখিয়েই তুলে নেওয়া হয়েছে।