advertisement
আপনি পড়ছেন

গত শুক্রবার ভোররাতে রাজধানী ঢাকাসহ কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কিছুদিন পর এই আলোচনা থেমে যাবে, তারপর আবার ভূমিকম্প হলে উঠবে একই আলোচনা। এর বাইরে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না বললেই চলে। বাস্তবতা হল, ভূমিকম্পের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম শহরের নাম ঢাকা।

a view over the city of dhaka bangladeshঢাকা শহর

আর্থ অবজারভেটরি সেন্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান, ইউরেশিয়ান এবং বার্মা- এই তিনটি প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এ কারণে যে কোনো সময় বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারি আমরা। এর মধ্যে ঢাকাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করার কারণ হলো এর অপরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার অবস্থা ভয়াবহ।

পুরান ঢাকায় শত বছরের অনেক পুরনো বাড়িতে এখনো মানুষ বসবাস করছে। ভবনগুলো এমন গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে যে, তার মাঝখান দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, মানুষের চলাচলই দায় হয়ে যায়। যে ভবনের গাঁথুনি সর্বোচ্চ তিন তলার, সেখানে নির্দ্বিধায় তোলা হয়েছে ৫-৬ তলা।

earthquake newভূমিকম্প

২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও জাইকার যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়। সেখানে দেখা গেছে, রিখটার স্কেলের ৭ কিংবা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরে ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার ভবন। স্তূপ তৈরি হবে ৭ কোটি টন কংক্রিটের।

এতে কত মানুষের প্রাণহানি হতে পারে, সেটা ভাবাও মুশকিল। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন যেভাবে অরক্ষিত হয়ে পড়ে আছে, সেটা ঝুঁকিকে বাড়িয়ে তুলেছে কয়েকগুণ। বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে এসব লাইনে বিস্ফোরণ ঘটে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এই যখন পরিস্থিতি তখন দুর্যোগ মোকাবেলায় কিছু পরিকল্পনা থাকলেও তার বাস্তবায়ন নেই।

২০১৫ সালে ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার’ গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল, সেটা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়নি। ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড থাকলেও এর বাস্তবায়ন বা মনিটরিং নেই বললেই চলে। যে ভবনগুলো বিল্ডিং কোড লঙ্ঘন করে বানানো হয়েছে, সেগুলো ভেঙে ফেলার কথা বলা হয়েছিল। সেটাও করা হয়নি।