advertisement
আপনি পড়ছেন

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বর্তমানে হেলপলেস ফিল করছেন তার চিকিৎসায় নিয়োজিত চিকিৎসকরা। তাদের দিকে তাকিয়ে খালেদা জিয়াও বিষয়টি আঁচ করতে পারছেন। নিজের ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে ডেকে তিনি জিজ্ঞাসা করেছেন, ওদের মুখ এত কালো কেন? ওরা কি আমাকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে?

khaleda zia 3হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়া

রোববার সন্ধ্যায় খালেদা জিয়ার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা নিয়ে রাজধানীর গুলশানে বাসভবন ফিরোজায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের কথাগুলো বলা হয়। 

খালেদা জিয়ার প্রধান চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী (এফ এম সিদ্দিকী) বলেন, এর আগে তিনি চেস্ট টিউব নিয়ে ১৭ দিন কাটিয়েছেন। প্রতিদিন তার ফ্লুইড বের হয়ে এসেছে। প্রতিদিন তিনি নিজের চোখে ব্লাড দেখছেন। এন্ডলেস একটা সিচুয়েশন, সেখান থেকেও কিন্তু আমরা কনফিডেন্টলি বের হয়ে এসেছি। কিন্তু এখন আমরা কিন্তু হেলপলেস ফিল করছি। যেহেতু অনেক সময় কিছু করার উপায় থাকে না, সেজন্য আমাদের হেলপলেস লাগে। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই এরকম।

অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, ম্যাডাম আমাদের মুখ দেখে বিষয়টি বোধহয় ধারণা করতে পেরেছেন। এমনকি অধ্যাপক ডা. জাহিদকে জিজ্ঞাসাও করেছেন, ওদের মুখ এত কালো কেন। ওরা কি আমাকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে? সে সময় আমরা আবার গিয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছি।

খালেদা জিয়ার লিভারে তিন বার রক্তক্ষরণ হয়েছে উল্লেখ করে মেডিকেল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ আছে। তবে আবারো রক্তক্ষণের ঝুঁকি রয়েছে, সেটা হলে তা সামাল দেয়া কঠিন হবে। ব্লিডিং হয়ে মৃত্যুঝুঁকি আরো বেড়ে যাবে।

এই রোগের চিকিৎসার প্রযুক্তি বাংলাদেশ তো নয়ই, ভারতীয় উপমহাদেশেও নেই বলে জানান ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি জানান, এমন চিকিৎসা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সুনির্দিষ্ট কিছু সেন্টারে সম্ভব। এখনই সেই চিকিৎসা করা না গেলে এবং তার অবস্থা খারাপ হলে বিদেশে নেয়া সম্ভব নাও হতে পারে।

খালেদা জিয়াকে সাধ্যের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে জানিয়ে রোগ ও তার চিকিৎসার প্রাথমিক বর্ণনা দেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান। তিনি জানান, তার পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত গেছে। রক্ত দিয়ে কিছু ওষুধ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া সম্ভব হয়েছে। এই ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেয়া সম্ভব নয়।

খালেদা জিয়া গত ১৩ নভেম্বর থেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তিনি ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন দাবি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে দল ও পরিবার। সরকারের অনুমতি না পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাষ্ট্রপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। একই দাবিতে দলটির সাবেক সংসদ সদস্যরাসহ ৮ দিনের কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে বিএনপি।