advertisement
আপনি পড়ছেন

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অন্তত ১৭টি দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনার সবচেয়ে বিপদজনক ও অতি সংক্রামক ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভয়ংকর ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে বাংলাদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফেরা ৭ জনের বাড়িতে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

red flag at homeবাড়িতে লাল পতাকা

ভ্যারিয়েন্টটির ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আজ সোমবার, ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকে বসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এতে সেখানকার ৭ নাগরিকের বাড়িতে প্রাথমিক নিরাপত্তা পদক্ষেপ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এর অংশ হিসেবে তাদের বাড়িতে লাল পতাকা টানিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখার কথা জানানো হয়।

এ ছাড়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা কঠোরভাবে তদারকি করার নির্দেশ জারি করেছে করোনা প্রতিরোধ কমিটি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রাশাসক হায়াত-উদ-দৌলা-খাঁন। এতে সিভিল সার্জন ডা. একরামুল্লাহ, পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার ও প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামি অংশ নেন।

omicron covid 19 virus 1ওমিক্রন নিয়ে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক, ফাইল ছবি

বৈঠক সূত্রমতে, জেলার কসবার ৩ জন, সদরে ২ জন এবং বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরে ১ জন করে বাসিন্দা দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ফিরেছেন সম্প্রতি। এসব ব্যক্তির ব্যাপারে দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে হোম কোয়ারেন্টিনে নিশ্চিত কারা হচ্ছে।

সেইসঙ্গে করোনার টিকাদান দ্রুত বাড়ানোর পাশাপাশি নিবন্ধনকৃত ২ লাখ ব্যক্তিকে দ্রুত টিকা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানানো হয়। এদিকে, কেন্দ্রীয়ভাবে ওমিক্রন নিয়ে ১৫ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

এর আগে করোনার এই ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছেন, দেশের সকল এয়ারপোর্ট, ল্যান্ডপোর্টের প্রবেশপথে স্ক্রিনিং আরো জোরদার করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে ‍ওমিক্রন ঠেকাতে দ্রুত ৪টি সুপারিশ করেছে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। সেগুলো হলো- ক. দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, নামিবিয়া, বতসােয়ানা ও সােয়াজিল্যান্ডসহ সংক্রমণ ছড়ানো দেশগুলো থেকে যাত্রী বাংলাদেশে প্রবেশ বন্ধ করা। খ. বিগত ১৪ দিন আগে এসব দেশ ভ্রমণ করা ব্যক্তিদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা, পরীক্ষায় পজিটিভ আসলে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করা।

গ. প্রতিটি ‘পোর্ট অব এন্ট্রি’তে স্ক্রিনিং, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা, স্কুল-কলেজসহ চিকিৎসা সেবা জোরদার করা এবং সভা-সমাবেশে জনসমাগম সীমিত করা। ঘ. উপসর্গ দেখা দিলে করোনা পরীক্ষায় জনগণকে উৎসাহিত করতে বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা।