advertisement
আপনি পড়ছেন

বিতরণ কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে গ্যাসের মূল্য দ্বিগুনেরও বেশি বৃদ্ধি করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে চলতি মাসের শুরুর দিকে। সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বা বিইআরসি। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবটি বিধি অনুযায়ী করা হয়নি। যথাযথ নিয়ম মেনে পুনরায় আবেদন করতে বলা হয়েছে।

berc logoবিইআরসি

এরপর কোম্পানিগুলো নতুন করে মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিতে শুরু করেছে। তবে এই মুহূর্তে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখতে পারছে না এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের একজন সদস্য বলছেন, গ্যাসের খুচরা মূল্য তো দূরের কথা, এই মুহূর্তে পাইকারি মূল্য বৃদ্ধিরও কোনো কারণ দেখছি না।

ওই সদস্য আরেও বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে কোম্পানিগুলো যে আবেদন করেছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস জমা দেওয়া হয়নি, সে কারণে প্রস্তাব ফেরত পাঠানো হয়েছে। এখন তারা আবার আবেদন করতে শুরু করেছে। সবগুলো কোম্পানির আবেদন শেষ হলে প্রস্তাব পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আবারও বলছি, গ্যাসের দাম বাড়ানোর মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।

gas fire newগ্যাস

প্রস্তাবে আবাসিকের ক্ষেত্রে দুই চুলায় ৯৭৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং এক চুলায় ৯২৫ থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়। এ ছাড়া আবাসিকের ক্ষেত্রে প্রি-পেইড মিটার, শিল্প, বিদ্যুৎ, সিএনজি এবং ক্যাপটিভ অর্থাৎ শিল্পকারখানায় নিজস্ব উৎপাদিত বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্যাসের দামও দ্বিগুণের বেশি করার দাবি তুলেছে বিতরণ কোম্পানিগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতিদিন সারাদেশে গড়ে ৩০০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে ৭৮ শতাংশ বা ২৩০ কোটি ঘনফুটের বেশি আসে। এ ছাড়া মোট সরবরাহের ১৭ শতাংশ আসে কাতার ও ওমানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি আমদানির মাধ্যমে। বাকি ৫ শতাংশ প্রয়োজন বুঝে আন্তর্জাতিক খোলাবাজার থেকে কেনা হয়। অবশ্য গত দুই মাস ধরে গ্যাস কেনা বন্ধ আছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মাত্র ৫ শতাংশ গ্যাস না কেনার কারণে বাড়তি দামের নামে গ্যাসের দাম দ্বিগুণ করার যেমন কোনো সুযোগ নেই, তেমনি দাম বাড়ানোরও কোনো যৌক্তিকতা নেই।