advertisement
আপনি পড়ছেন

গত বছরই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা ছিল তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের। পরবর্তীতে বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে সেটা পিছিয়ে যায়। তবে চলতি বছর মুসলিম বিশ্বের এই প্রভাবশালী নেতা ঢাকা সফরে আসছেন বলে দুই দেশের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত তুর্কি নেতার ঢাকার সফরের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি।

erdogan turkey presidentতুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান, ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ও তুরস্কের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি বছরের সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরে আসবেন রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কে বেশ উন্নতি হয়েছে। তুর্কি নেতার বাংলাদেশ সফরের মাধ্যমে মুসলিম প্রধান দুই দেশের মধ্যকার সেই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তুরস্কের প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তার সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে গত বছরই, ২০২১ সাল, ঢাকা সফরে আসতে চেয়েছিলেন এরদোয়ান। কিন্তু বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী কোভিড-১৯ এর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ঢাকায় আসতে পারেননি তুর্কি শাসক।

এ বিষয়ে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান জানান, বাংলাদেশ সফরের জন্য আগেই আমন্ত্রণ পেয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। আমন্ত্রণ গ্রহণ করে গত বছরই ঢাকা সফর করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারির কারণে সেটা সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে আমরা আশা করছি, চলতি বছরেরই সুবিধানজনক সময়ে ঢাকা সফর করবেন প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান।

ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর আগে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, চলতি ২০২২ সালেই ঢাকা সফর করবেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তবে এখনো দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আলোচনা করে এ ব্যাপারে সুবিধাজনক একটি সময় নির্ধারণ করবেন বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, কয়েক বছর আগে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও অভিযুক্তদের দণ্ড কার্যকর করা নিয়ে ঢাকা-আঙ্কারা সম্পর্কের বেশ অবনতি ঘটে। তবে সে অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে দুই দেশই। এরই ফলশ্রুতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্কে সুবাতাস বইছে।

জানা যায়, ইতোমধ্যে তুরস্ক থেকে বেশ কিছু সামরিক সরঞ্জাম কেনার ব্যাপারে দেশটির সঙ্গে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই কারণে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র সচিব, সেনাপ্রধান ও অন্যান্য কর্মকর্তারা আঙ্কারা সফর করেছেন। বিপরীতে গত বছর ঢাকা সফর করে গেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসোগ্লু।

এ ছাড়া চলতি মাসেই ঢাকা করে গেছেন তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুলেইমান সয়লু। গত ৮ জানুয়ারি আঙ্কারা থেকে সরাসরি কক্সবাজার গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে ঢাকায় আসেন তিনি। এরপর দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু চুক্তি সই হয়। পরে একই দিন রাতে দেশে ফেরেন তুর্কি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ঝটিকা সফরে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি দেশটির নেতা এরদোয়ানের ঢাকা সফরের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকতে পারে। ভেতরে ভেতরে দুই দেশের মধ্যে এরদোয়ানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে আলোচনা চলছে এবং দিনক্ষণ চূড়ান্ত হলেই তা জানানো হবে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা-আঙ্কারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে গতি বৃদ্ধি পেয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বেড়েছে বাণিজ্যের পরিমাণও। তুরস্কের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের কাছে সামরিক সরঞ্জাম বিক্রয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তুর্কি নেতার ঢাকা সফরে এসব বিষয়ের পাশাপাশি বড় ধরনের বিনিয়োগ নিয়েও সমঝোতা হতে পারে।