advertisement
আপনি পড়ছেন

মনসুর আহমেদ, বয়স ৩৩। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর সদরে। নিজেকে পরিচয় দিতেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য হিসেবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে দাবি করে তাদের নাম ভাঙিয়ে সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন ও নির্মাণ প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভনে বিভিন্ন ঠিকাদার ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

monsur mohosinআটক মনসুর আহমেদ (সাদা পাঞ্জাবি)

জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, এনএসআই সূত্রে জানা যায়, মুনসুরের রয়েছে একটি  প্রতারক ও জালিয়াতি চক্র। এই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানতে পারে এনএসআই। এরপর গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে ধরতে অভিযান চালায় এনএসআই ও র‌্যাব-৩ এর একটি দল।

যৌথ অভিযানে রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে মনসুর আহমেদ এবং তার সহযোগী মো. মহসিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন দলিল ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট।

সংশ্লিষ্টরা জানায়, চক্রটির ৫-৭ জন সদস্য রয়েছে। বিগত প্রায় ৩-৪ বছর ধরে নানা প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে প্রতারিত করে আসছে।

প্রতারণার জন্য নতুন নতুন কৌশল ব্যবহার করত চক্রটি। মোবাইলে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নামে নম্বর সেভ করত এবং নিজেরা ওই ব্যক্তি সেজে নিজেদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চ্যাটিং করত।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নাম ও ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি খুলতো তারা। তারপর নিজেদের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে চ্যাটিং করতো। এই চ্যাটিং কন্টেন্ট এমনভাবে তৈরি করতো, যাতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মনে করে ইতোপূর্বে অর্থের বিনিময়ে অনেক কাজ পাইয়ে দিয়েছে।

এই চক্রের একজন সদস্য সাইফুল বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রয়েছেন। তিনি নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি পরিচয় দিতেন এবং সেখানে বসে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতেন।

র‍্যাব জানায়, নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করার জন্য তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে তাদের ছবি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেখাত। নিজেদের কোম্পানিকে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে হাজার হাজার কেটি টাকার ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টি দেখাত। কোনো অফিসে মিটিংয়ের সময় দামী গাড়ি ও বডিগার্ড নিয়ে নিজেদের উপস্থাপন করত। এছাড়া কাজের জন্য ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন বলেও বিভিন্ন ছবি দেখাতেন।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, মনসুর প্রথমে স্থানীয় এলাকায় জমির দালালি করত। পরবর্তীতে সে ঢাকায় একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেয়। সেখানে থাকাকালীন প্রতারণার বিষয়টি তার মাথায় আসে। পরবর্তীতে ওই এজেন্সির এক কর্মচারীর মাধ্যমে সাইফুলের সাথে পরিচয় হয় এবং প্রতারণার জন্য চক্রটি গড়ে তোলে।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত মহসিন প্রথমে ঢাকার মালিবাগে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ব্যবসা করত। পরবর্তীতে ব্যবসায়িক ক্ষতির কারণে ফ্যাক্টরিটি বিক্রি করে দেন। এরপর মতিঝিলে মনসুরের সাথে পরিচয়ের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সাথে যুক্ত হন।